উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা আইনের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন

বোর্ড গঠনের বিধান রেখে 'উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা আইন, ২০১৪'-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেটকক্ষে সোমবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা এক সংবাদ সম্মেলনে এই অনুমোদনের কথা জানান।


নতুন এই আইনটি উপানুষ্ঠানিক শিক্ষাকে আরো বিস্তৃত এবং এই শিক্ষার গুণগত মান আরো বাড়াবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, খসড়া আইন অনুযায়ী উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো প্রশাসনিক কাজ করবে। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার মান সাধারণ শিক্ষার সমমানের হবে।

তিনি বলেন, এ জন্য একটি উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা বোর্ড গঠন করা হবে। ব্যুরোর মহাপরিচালক পদাধিকারবলে বোর্ডের চেয়ারম্যান হবেন। বোর্ড সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে নিজস্ব উপ-বিধি ও কর্মপ্রণালি প্রণয়ন করতে পারবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, অনেক শিশু মূল ধারার শিক্ষা থেকে ছিটকে পড়ে। তাদের জন্যই নতুন এই আইন। 'সবার জন্য শিক্ষা' বাস্তবায়নে এই আইন ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে এ বিষয়ে একটি নীতিমালা আছে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

মোশাররাফ হোসাইন বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমের যে কোনো পর্যায়ে ব্যতিক্রম ঘটালে বা বাধা দিলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। এর জন্য দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদ- দেয়া হবে বলে খসড়া আইনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে গত বছরের ৬ জুন খসড়া আইনটির নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়। গত ৩ ফেব্রুয়ারি আইনের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হলে মন্ত্রিসভা খসড়াটি আরো পর্যালোচনা করে কিছু বিষয় নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করে সংক্ষিপ্তভাবে প্রণয়ন করে আবার উপস্থাপনের নির্দেশ দেয়।

নীতিগত অনুমোদনের সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছিলেন, খসড়া আইনে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষায় ভর্তি হওয়ার বয়স ৮-১৪ বছর ও বয়স্ক শিক্ষার ক্ষেত্রে ১৫-৪৫ বছর করা হয়েছে।

উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার ক্ষেত্রে সাক্ষরতা ছাড়াও কৃষি, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, পরিবার পরিকল্পনা, বন ও পরিবেশ, মৎস্য ও পশুপালন, কুটির শিল্প, কারিগরি এবং বৃত্তিমূলক কাজসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যায়ক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

খসড়া উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা আইন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আর্থ-সামাজিকসহ শিক্ষাক্ষেত্রে অনগ্রসর ও সুযোগবঞ্চিত জনগোষ্ঠী যেমন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, অনগ্রসর এলাকায় (হাওর, চর, উপকূলীয় ও পার্বত্য অঞ্চল) বসবাসকারী জনগোষ্ঠী, দুস্থ জনগোষ্ঠী (পথশিশু, বেকার যুবক ও যুব মহিলা, স্বল্প আয়ের শ্রমিক ও কর্মজীবী পুরুষ-নারী), প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক শিশু, যুবক এবং যুব মহিলারাও এই আইনের আওতায় আসবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই আইনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে ঝরেপড়া ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে সাক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন করা এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানবসম্পদে পরিণত করা হবে।

খসড়া আইনে বলা হয়েছে, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে সরকার অনুমোদিত একটি একক কারিকুলাম অনুসরণ করা হবে। এই শিক্ষা সমাপনকারীদের যথাযথভাবে যোগ্যতা যাচাইয়ের পর উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সনদ দেয়া হবে। এই সনদ দিয়ে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার কোনো শিক্ষার্থী আনুষ্ঠানিক শিক্ষার যে কোনো প্রতিষ্ঠানে পরবর্তী স্তরে ভর্তি হওয়ার যোগ্য হবে। একইভাবে আনুষ্ঠানিক শিক্ষার সনদপ্রাপ্ত কোনো শিক্ষার্থী উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার পরবর্তী স্তরে ভর্তি হতে পারবে।

খসড়া আইনে আরো বলা হয়েছে, উপানুষ্ঠানিক ও আনুষ্ঠানিক শিক্ষা শেষে প্রদত্ত সনদের স্তরভিত্তিক একই গুরুত্ব, মর্যাদা ও উপযোগিতা থাকবে। এই দুই ধরনের শিক্ষা সনদের গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে কোনো প্রভেদ করা যাবে না।

খসড়া আইনে বলা হয়েছে, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার সব স্তরে পাঠদানের মাধ্যম হবে বাংলা। তবে বোর্ড কর্তৃক নির্বাচিত অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে ইংরেজি বিষয়ও পড়ানো হবে। নৃ-গোষ্ঠীর জন্য তাদের প্রধান প্রধান স্বকীয় ভাষায় পাঠদানের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হবে।

উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমে সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, প্রতিষ্ঠান ও সমাজের শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করাসহ বেসরকারি অংশীদারিত্বকে উৎসাহিত করা হবে বলেও খসড়া আইনে বলা হয়েছে।


মন্তব্য