Thedailycampus

জুনিয়রের ইনবক্সে যৌন হয়রানিমূলক বার্তা পাঠাতেন ঢাবি ছাত্র

নাহিদ শিকদার দিহান

একই বিভাগের জুনিয়র ছাত্রীর কাছে নিজেকে সিনিয়র পরিচয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের ইনবক্সে যৌন উত্তেজক বার্তা পাঠাতেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিক্ষার্থী নাহিদ শিকদার দিহান। ইনবক্সে প্রথম কিছুদিন স্বাভাবিক বার্তা আদান-প্রদান হলেও কিছুদিন পর অশ্লীল কথা পাঠানো শুরু করে ওই শিক্ষার্থী। দিহানের বিরুদ্ধে এমনটিই অভিযোগ তার বিভাগের জুনিয়র ছাত্রীর।

তবে তিনি নিজেই ভুক্তভোগী দাবি করে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। দিহান বলেছেন, যে সময় এসব কথাবার্তার বিষয়ে বলা হয়েছে তখন তার আইডি হ্যাক হয়েছিলো। আইডি হ্যাক হওয়ার কারণে তিনি দীর্ঘদিন ফেসবুক ব্যবহার করতে পারেননি।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী দিহান বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ২০১৪-১৫ সেশনের শিক্ষার্থী। এছাড়া তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হল শাখা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত। অপরদিকে নির্যাতনের শিকার ছাত্রী একই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত। ২০১৮ সালের জুন মাসে এ হয়রানির ঘটনা ঘটে। হয়রানির প্রায় ১ বছর পর এসে ঘটনা প্রকাশ করেন ভুক্তভোগী ছাত্রী।

হয়রানির শিকার ওই ছাত্রী বলেন, প্রথমবর্ষে থাকাকালীন সময়ে দিহান ভাই আমাকে ফেসবুকে নক দেয়। বিভাগের বড় ভাই হিসেবে কথা বলি। কিন্তু মাস ছয়েক পর তিনি আমাকে নানাভাবে কুপ্রস্তাব দেওয়া শুরু করেন। শুরুতেই বিভাগের অনেক সিনিয়রকে চিনতাম না। যিনি কথা বলতে আসতো তার সাথে স্বাভাবিক কথা বলতাম। তাছাড়া খুব ছোটবেলা থেকে একটা সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বড় হওয়ার কারণে সবাইকেই আমি তাড়াতাড়ি বন্ধুর মতো আপন করে নিই।

আচরণ বর্ণনা করতে গিয়ে ভুক্তভোগী বলেন, উনি প্রথমদিকে বিভাগ সংশ্লিষ্ট বিষয় যেমন ক্লাস, টিচার এসব বিষয়ে আলোচনা করতেন। আমিও সবকিছু স্বাভাবিকভাবে নিয়ে কথা বলতাম। এসময় তিনি আমার একাকীত্ব নিয়ে কথা বলা শুরু করলেন। ক্যাম্পাসলাইফ উপভোগ করতে শেখার জন্য নানা উপদেশ দিচ্ছিলেন। সেটাও আমি ভালোভাবেই নিয়েছি, এরকম একটা উপদেশ আমার কাছে অস্বাভাবিক কিছু মনে হয়নি। কিন্তু হঠাৎ উনি আমার সাথে অশ্লীল কথা বলা শুরু করেন। আমি নানাভাবে বাধা দেওয়ার পরও তিনি অশ্লীল কথা আমার সাথে চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। আমাকে কু-প্রস্তাবও দেওয়া শুরু করেন।

পরিস্থিতি বর্ণনা করে ওই ছাত্রী বলেন, এত কম পরিচয়ে একটা মানুষ আমাকে এত নোংরা কথা বলতে পারে, সেটা আমার দুঃস্বপ্নেও ছিলো না। আমি এ ধরনের কথা শুনে আইসোলেটেড হয়ে যাই। দীর্ঘদিন স্বাভাবিক হতে পারিনি। এই ঘটনার পর থেকে ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র তো বটেই, যেকোনো মানুষের প্রতিই আমার একটা অরুচি চলে আসে, আমি ক্লাস করা বন্ধ করে দিই, টোটালি আইসোলেটেড হয়ে যাই।

এদিকে নিজের বিভাগের জুনিয়রের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দিহান। তিনি বলেন, আমি নিজেই ভিক্টিম, তখন আমার আইডি হ্যাক হয়েছিলো। আইডি হ্যাক হওয়ার কারণে আমি দীর্ঘদিন আইডি ব্যবহার করতে পারিনি। এসময় কে বা কারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে।

ঢাবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সকল অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার আছে। এর আগে অপরাধের বিষয়ে যেভাবে সাজা হয়েছে এ বিষয়েও ভিন্ন হবে না। ভুক্তভোগীর সাথে আমাদের কথা হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।