Thedailycampus

করোনার ‘পিক টাইম’ আগামী দু’সপ্তাহ, সরকারের কৌশল কী?

বাংলাদেশ সরকার করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দমিয়ে রাখতে এখনও মানুষকে ঘরে রাখা বা সামাজিক দূরত্ব রক্ষার কার্যক্রমকে প্রধান কৌশল হিসাবে নিয়েছে।

সেজন্য সাপ্তাহিক ছুটি আরও এক সপ্তাহ অর্থাৎ ৯ই এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের অনেকে বলেছেন, বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের পিকটাইম হতে পারে আগামী দুই সপ্তাহ। এই বিষয়টিকে ঠিক কতোটা গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে তা নিয়ে তাদের সন্দেহ রয়েছে।

তবে কর্মকর্তারা বলেছেন, করোনার সংক্রমণ খারাপ অবস্থার দিকে গেলে চিকিৎসার যথাযথ প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। সংক্রমণ ঠেকিয়ে রাখতে বাংলাদেশ এখন একটা লকডাউনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

সরকারের পক্ষ থেকে লকডাউন শব্দ ব্যবহার না করে বলা হচ্ছে সাধারণ ছুটি। মানুষকে ঘরে রাখতে সেই ছুটি আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড: আহমদ কায়কাউস বলেছেন, সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করা এই মুহুর্তে সরকারের প্রধান কৌশল। সূত্র: বিবিসি বাংলা।

এই কৌশল বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে দরিদ্র এবং নিম্ন আয়ের মানুষের সহায়তা দেয়ার বিষয় একটা চ্যালেঞ্জ হিসাবে এসেছে। এর সাথে তৃতীয় কৌশল হিসাবে করোনার চিকিৎসার যথাযথ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

‘‘একটি বিষয় নিয়ে সর্বত্র আলোচনা হচ্ছে এবং দেখা যাচ্ছে যে সবাই সেটি প্রয়োগ করার চেষ্টা করছে। বিষয়টি হচ্ছে, সামাজিক দূরত্ব রাখা, যাতে করে করোনাভাইরাস ছড়াতে না পারে। সরকার এটাকে আরও বাড়াচ্ছে। এটাই এখন সরকারের মূল পদক্ষেপ।’’

তিনি আরও বলেছেন, ‘‘এখন আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, এই যে দীর্ঘ একটা ছুটি, এর ফলে দৈনিক যারা আয় করে জীবন চালান বা নিম্ন আয়ের মানুষ, তাদের আয় কমে গেছে বা নেই, সেক্ষেত্রে তাদের সহায়তা দেয়া। আর করোনাভাইরাসের সংক্রমণ যদি ব্যাপক হয়, সেজন্য চিকিৎসার সব প্রস্তুতি আমাদের নেয়া আছে।’’

দেশের মাঠ পর্যায়ের প্রশাসন বা জেলা প্রশাসকদের সাথে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারের এসব কৌশলের কথা তুলে ধরেছেন।

সেই প্রেক্ষাপটে কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, সারাদেশে করোনাভাইরাসের পরীক্ষা এবং চিকিৎসার ব্যাপারে একটা শক্ত নেটওয়ার্ক তৈরি করতে তারা সক্ষম হয়েছেন।

কিন্তু বিশ্লেষকদের অনেকে বলেছেন, চীন থেকে শুরু করে ইতালি, ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ধাপে ধাপে প্রবাসীরা বাংলাদেশে এসেছেন। তাদের কোয়ারেন্টিনে থাকার সময় বিশ্লেষণ করলে এর বিস্তারের প্রশ্নে আগামী দুই সপ্তাহ গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা মনে করেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সাইফুল্লাহ মুনশী বলছিলেন, ‘‘চীন থেকে আসা প্রবাসীদের কোয়ারেন্টিন শেষ হয়েছে। ইতালি থেকে দ্বিতীয় ধাপে আসা প্রবাসীদের কোয়ারেন্টিন শেষ পর্যায়ে চলছে। আমরা কিন্তু এখনও অন্যান্য পার্শ্ববর্তী দেশের মতো পিক সময়টা দেখি নাই।’’

‘‘আমাদের হাসপাতালগুলোতে কিন্তু সে রকম সংখ্যায় করোনাভাইরাসের রোগী আমরা দেখছি না। এর একটা কারণ হতে পারে যে লকডাউনের কারণে হাসপাতালে রোগী রিপোর্ট করছে না। অপর পক্ষে যেহেতু আমাদের পরীক্ষা কম হচ্ছে, সেজন্যও রিপোটিং কম হচ্ছে। যেটাই কারণ হোক না কেন, আমরা কিন্তু পিক সময় দেখতে পাই নি। সেজন্য আগামী দুই সপ্তাহ হয়তোবা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।।’’

স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করেন ড: জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি মনে করেন, সরকারের পদক্ষেপগুলোতে এখনও ঘাটতি আছে। তিনি বিশেষভাবে এখনও পরীক্ষা কম হওয়ার বিষয়কে বড় কারণ হিসাবে উল্লেখ করেছেন।

‘‘কৌশল বা পলিসিগত যে সিদ্ধান্তই হোক না কেন, এখন এই পর্যায়ে এসে পরীক্ষা বাড়ানো প্রয়োজন। এটা পর্যাপ্ত হচ্ছে না। সেটাই সবচেয়ে বড় সমস্যা। কারণ আগামী কয়েকদিন পরিস্থিতি বোঝা প্রয়োজন। এরপরও টেস্ট সীমিত পর্যায়ে রাখা হচ্ছে।’’

তবে কর্মকর্তারা বলেছেন, ঢাকার বাইরেও পরীক্ষার কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। তারা উল্লেখ করেছেন, এখন সন্দেহ হলেই পরীক্ষা করা হবে, এমন ব্যবস্থা তারা নিচ্ছেন। সূত্র: বিবিসি বাংলা।