নাইমুল আবরারের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন

সম্প্রতি কিশোর আলোর প্রোগ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট মৃত্যু হওয়া রাজধানীর ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র নাইমুল আবরারের লাশের ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে।

রোববার (১০ নভেম্বর) দুপুরে নোয়াখালীর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে এই ময়নাতদন্ত করা হয়।

হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসা কর্মকর্তা (ইএমও) মাসুদুর রহমান ও চিকিৎসক ফাহিমা খানম লাশের ময়নাতদন্ত করেন। ময়নাতদন্ত কার্যক্রম তদারকি করেন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিম।

নাইমুল আবরারের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন চিকিৎসক মাসুদুর রহমান। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, আজ রোববার বেলা দুইটার দিকে তিনি এবং দুজন চিকিৎসক মিলে ময়নাতদন্ত করেছেন। তবে প্রতিবেদন দিতে দু-তিন সময় লাগতে পারে।

ময়নাতদন্ত চলাকালে হাসপাতালে নাইমুল আবরারের চাচাতো ভাই শাহদাত হোসেনসহ স্বজনেরা উপস্থিত ছিলেন। ময়নাতদন্ত শেষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁদের কাছে লাশ হস্তান্তর করে। পরে তাঁরা বিকেল সাড়ে চারটার দিকে লাশ আবার একই কবরে দাফন করেন। শাহদাত হোসেন নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে আদালতের নির্দেশে গতকাল শনিবার নাইমুল আবরারের লাশ নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার ধন্যপুর গ্রামের বাড়ির কবরস্থান থেকে উত্তোলন করা হয়। নোয়াখালীর নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইলিশায় রিছিল এ সময় উপস্থিত ছিলেন। তা ছাড়া মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ঢাকার মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল আলীমও লাশ উত্তোলনকালে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। শনিবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

১ নভেম্বর ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের মাঠে আয়োজিত কিশোর আলোর বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত কিআনন্দ অনুষ্ঠান চলাকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন নাইমুল আবরার। নাইমুল ওই কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল। তাৎক্ষণিক তাকে রাজধানীর ইউনিভার্সেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর ধন্যপুর গ্রামের বাড়িতে নাইমুলের লাশ দাফন করা হয়।

ছেলের মৃত্যুকে অবহেলাজনিত মৃত্যু বলে অভিযোগ করে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে গত বুধবার একটি মামলা করেন নাইমুল আবরারের বাবা মজিবুর রহমান।

ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আমিনুল হক নালিশি মামলাটি আমলে নিয়ে মোহাম্মদপুর থানাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে নাইমুল আবরারের লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত করার নির্দেশ দেন আদালত।