Thedailycampus

বুয়েটের ছাত্র আবরার হত্যকাণ্ডের তদন্ত চায় জাতিসংঘ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপ্পো। এ হত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করেছেন তিনি। আজ বুধবার ‘ডিকাব টক’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি।

মিয়া সেপ্পো বলেন, ‘এমন ঘটনা ভাবা তো একটি আতঙ্কজনক দুঃস্বপ্ন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া দুই সন্তানের মা হিসেবে এটা ভাবা আমার কাছে আতঙ্কের। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী যাতে নিরাপদে থাকতে পারে, সে ব্যাপারে জনগণের মাঝে আস্থা থাকতে হবে।

তিনি বলেন, প্রকাশ্য স্থানে জনগণ বিশেষ করে কিশোরী, নারী, তরুণ, পুরুষসহ সবাই যাতে নিরাপদে থাকতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। এটি উৎসাহব্যঞ্জক। জাতিসংঘের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।

মিয়া সেপ্পো বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা একটি মানবাধিকার। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চর্চার জন্য কাউকে হয়রানি, নির্যাতন ও হত্যা করা উচিত নয়।

ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর দপ্তর থেকে আজ বুধবার দুপুরে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, অবাধ মতপ্রকাশের অভিযোগে বুয়েটের এক তরুণ শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনায় জাতিসংঘ নিন্দা জানাচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে অভিযুক্তদের বিচার না করায় বাংলাদেশের ক্যাম্পাসগুলোতে সহিংসতায় অনেকেই প্রাণ দিয়েছেন।

আরো বলা হয়েছে, জাতিসংঘের বাংলাদেশ দপ্তর লক্ষ করছে- অভিযুক্তদের ধরার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিয়েছে। এর ফলে স্বাধীন তদন্তকারীরা একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে স্বচ্ছ বিচারের পথে যাবেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে যা সহায়ক হবে।

উল্লেখ্য, গত রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ফেসবুকে লেখালেখির কারণে কারণে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদেরকে প্রায়ই এ ধরণের নির্যাতনের শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

আবরার হত্যাকান্ডের বিচারের দাবিতে বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশের সকল ক্যাম্পাসে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় ছাত্রলীগের ১৯ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন আবরারের পিতা। এরমধ্যে ১৩ জনকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে।