স্বপ্নবাজ সিফাতকে সত্যিই আজ দেশ চিনল, কিন্তু...

পুলিশের গুলিতে নিহত সাবেক সেনাকর্মকর্তা মেজর সিনহার তথ্যচিত্রের চিত্রগ্রাহক ছিলেন সাহেদুল ইসলাম সিফাত। সিনহা তার ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিও ধারণ করার জন্য সিফাতকে নিয়ে যান টেকনাফে। সেখানে একটি রিসোর্টে অবস্থান করে এক মাস ধরে ডকুমেন্টরি তৈরি করছিলেন তারা।

সিফাতের নানা এনায়েত কবির হাওলাদার। তিনি বরগুনার বামনা সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, ছোটবেলা থেকে শখ ছিলো ফটোগ্রাফি ও অভিনয় করা। এ জন্যই আমরা তাকে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে ফ্লিম ও মিডিয়া বিভাগে ভর্তি করে দেই।

তিনি বলেন, টেকনাফ থানা পুলিশ নিজেদের বাঁচাতে তার নাতিসহ আরো দু’জন সহপাঠীকে এই ঘটনার বলিরপাঠা বানাচ্ছে। সিফাতের স্বপ্ন পুলিশের সাজানো নাটকে আজ ধংস হতে চলেছে। সিফাত জীবনে একটি সিগারেটও খায়নি অথচ তাকে মাদক দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে। মেজর সিনহা ওকে খুব ভালোবাসত। ওর মাধ্যমে সিনহা তার ইউটিউব চ্যানেলটি তৈরির কাজ শুরু করে।

সিফাতের নানা এনায়েত কবির বলেন, সাবেক সেনা কর্মকর্তার সাথে একই গাড়িতে ফিরছিলো আমার নাতি সিফাত। পুলিশ তাদের দোষ ধামাচাপা দিতে আমার নাতিকে মিথ্যা অভিযোগে গ্রেফতার করেন। আমিসহ দেশবাসী বিশ্বাস করে পুলিশের নাটকের বলিরপাঠা হলো আমার নাতি সিফাত।

এনায়েত কবির আরো বলেন, সিফাত টেকনাফে যাওয়ার সময় সিনহার তথ্য চিত্রের বিভিন্ন দিক নিয়ে আমার সাথে কথা বলেছে। ও (সিফাত) আমায় বলে নানু আমি ফটোগ্রাফি নিয়ে কাজ পড়াশুনা করে একদিন নাম করা ফটোগ্রাফার হবো। তোমরা দোয়া করো আমি সিনহা স্যারের সাথে টেকনাফে শুটিং করতে যাচ্ছি। ওখানে একমাস থাকবো। তোমার নাতিকে একদিন দেশ চিনবে।

তিনি আরো বলেন, আজ আমার নাতিকে সত্যি দেশ চিনলো, তবে পুলিশের সাজানো নাটকের আসামি হিসাবে। আমি আমার নাতির মুক্তি চাই। আপনারা আমার নাতিকে এনে দিন। সরকার আমার নাতিকে পুলিশের হাত থেকে ফিরিয়ে দিন।

নিহত (অবসরপ্রাপ্ত) মেজর সিনহা রাশেদ খান তার ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিও ধারণ করার জন্য সিফাতকে নিয়ে যান টেকনাফে। সেখানে একটি রিসোর্টে অবস্থান করে এক মাস ধরে ডকুমেন্টরি তৈরি করছিলেন তারা। তবে ফেরার পথে গত ৩১ জুলাই রাত ৯টায় টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর পুলিশ চেকপোস্টে এক পুলিশ কর্মকর্তার গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর মেজর সিনহা রাশেদ খান।

৩১ জুলাই কক্সবাজার মেরিনড্রাইভের শামলাপুর চেকপোষ্টে পুলিশের তল্লাশির মুখে পরার আগ পর্যন্ত সাবেক মেজর সিনহার সঙ্গেই ছিলেন স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সিফাত। তার বাড়ি বরগুনার বামনা উপজেলার কলাগাছিয়া গ্রামে। বাবার নাম নুর মোস্তফা। মা লন্ডন প্রবাসী মোসা: শিলা খান। সিফাত এ বছর স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ফ্লিম ও মিডিয়া বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। এর আগে তিনি বামনা সরকারি সারওয়ারজান পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও বামনা কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন।

 


সর্বশেষ সংবাদ