করোনার র‌্যাপিড টেস্টের অনুমোদন চলতি মাসেই

  © ফাইল ফটো

চলতি আগস্ট মাসেই করোনার র‌্যাপিড টেস্ট শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। খুব শিগগিরই র‌্যাপিড টেস্ট অর্থাৎ অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডির পরীক্ষা শুরু হবে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলেই কার্যক্রম শুরু করা হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক সূত্র গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অ্যান্টিবডি পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায়, করোনা থেকে যারা সুস্থ হয়েছেন তাদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কিনা। আর অ্যান্টিজেন পরীক্ষার মাধ্যমে দেখা হয়, বর্তমানে রোগীর শরীরে করোনাভাইরাস রয়েছে কিনা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে  জানায়, গত ৭ জুন র‌্যাপিড টেস্টের যৌক্তিকতা তুলে ধরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কী ধরনের র‌্যাপিড টেস্ট হতে পারে সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আবার সেটি একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে তাদের মতামতের জন্য পাঠায়। ইতোমধ্যেই বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রধান ডা. লিয়াকত তাদের মতামত দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন।

জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ে ঈদের ছুটির শেষে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা পাওয়া যাবে। এদিকে, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরও তাদের এই সংক্রান্ত কাজ শেষ করেছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলেই ওষুধ প্রসাশন অধিদপ্তর সে অনুযায়ী অ্যান্টিবডি-অ্যান্টিজেন কিট কেনার জন্য স্পেসিফিকেশন দেবে।

গত ৩ জুন কভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি করোনা শনাক্তে র‌্যাপিড টেস্টের জন্য সুপারিশ দেয়। তারা করোনা শনাক্তে এতদিন ধরে চলা আরটি পিসিআর (রির্ভাস ট্রান্সক্রিপটেজ পলিমারেজ রিঅ্যাকশন) পরীক্ষার সঙ্গে অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করার জন্য সুপারিশ করেন। সেখানে অ্যান্টিজেন পরীক্ষার পক্ষেও মত দেয় বিশেষজ্ঞরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, র‌্যাপিড টেস্টের মাধ্যমে একটি কমিউনিটিতে কত মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এবং সে আক্রান্তদের মধ্যে কত জনের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে এবং তাদের পুনরায় আক্রান্ত হবার আশঙ্কা আছে কিনা সেটি নির্ণয় করা যাবে। রোগীর অবস্থা এবং অ্যাপিডেমিওলজিক্যাল গবেষণা, দুই জায়গাতেই র‌্যাপিড টেস্টের প্রয়োজন রয়েছে। একইসঙ্গে লকডাউন লিফটিং, পোশাক কারখানাসহ নানা অফিস আদালত খুলে দেওয়ার জন্য, স্বাস্থ্যকর্মীদের কী অবস্থা সেটা বোঝার জন্য, এমন কী ভ্যাকসিন টেস্ট করার জন্য অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কিনা সেখানেও এর উপযোগিতা রয়েছে।


মন্তব্য