ঈদে নেই ঈদের আনন্দ

  © সংগৃহীত

আজ সারাদেশে পালিত হচ্ছে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। তবে মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে এবারের ঈদের আবহ ভিন্ন রকমের। আনন্দ-খুশির পরিবর্তে মানুষের মনে ভর করছে নানা আতঙ্ক আর দুশ্চিন্তা। তাই ঈদের নামাজ শেষে দেখা যায়নি হাত মেলানো ও কোলাকুলির চিরচেনা দৃশ্য। বড়দের হচ্ছে না শুভেচ্ছা বিনিময়। শিশুদের নেই দুরন্তপনা আনন্দ। বাদ যাচ্ছে বন্ধুদের সঙ্গে হইহুল্লোড়। করোনা সংক্রমণ এড়াতে এবারের ঈদে নেই ঈদের আনন্দ। 

আজকে খোলা বিশাল ঈদগাহে হয়নি কোন ঈদের জামাত। মসজিদে অথবা বাড়িতে আদায় করা হয়েছে ঈদের নামাজ। তাই নিজেদের মধ্যে আনন্দ ভাগাভাগি করার সেই দৃশ্যও অনুপস্থিত। এবার দেশে লকডাউনের কারণে ঈদের নতুন জামা গায়ে উঠেনি অনেকের। সংক্রমণ ঠেকাতে ঈদের নামাজ শেষে আত্মীয় স্বজনের বাড়িতেও যাওয়া হচ্ছে না।

রামপুরা সালামবাগ মসজিদে ঈদের নামাজ পড়া মুসল্লি ইয়ানুর বলেন, ঈদের দিন এমন হবে ভাবিনি। রোজার শেষে ঈদ এসেছে, কিন্তু সেই আমেজ কোথাও নেই। ঈদের নামাজ পড়েছি আতঙ্ক আর দুশ্চিন্তা নিয়ে। তিনি আরও বলেন, করোনাভাইরাস আমাদের সব আনন্দ কেড়ে নিয়েছে। কবে এই অবস্থা থেকে মুক্তি পাব ঠিক নেই।

সাইফুল ইসলাম নামের একজন বলেন, মনে করেছিলাম রোজার ভিতর করোনার প্রকোপ শেষ হয়ে যাবে। ঈদের দিন নতুন পরিবেশে সবাই আনন্দ করব। কিন্তু দিন যত যাচ্ছে পরিস্থিতি তত খারাপ হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আনন্দ কিভাবে আসবে। নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করেছি আমরা যেন দ্রুত এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে পারি।

আরেকজন মামুন আবেদিন বলেন, রোজার শেষে ঈদ এসেছে, কিন্তু ঈদের সেই আমেজ আর নেই। ঈদের নামাজ পড়েছি আতঙ্ক আর দুশ্চিন্তা নিয়ে। তিনি আরও বলেন, প্রতিবার ঈদেরদিন বন্ধুরা মিলে হইহুল্লোড় করি। এবার আর কিছুই করতে পারব না। এক বন্ধু আরেক বন্ধুর বাসায় দাওয়াত খেতে যাব তারও সুযোগ নেই। করোনা ঈদের খুশির বদলে বেদনা দিয়ে গেল।

দেশে করোনার কারণে ঈদের প্রধান জামাত রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের পরিবর্তে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে মোনাজাতে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করা হয়েছে। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলে দূরত্ব বজায় রেখে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করেন। এমনি ঈদের নামাজের পর হাত মেলানো বা কোলাকুলিও করেননি মুসল্লিরা।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ