করোনা: রাস্তায় টাকা ছিটিয়ে সমালোচনা কুড়ালেন ঢাকা দক্ষিণ সিটির সিইও

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্মকর্তার ছিটানো টাকা ধরতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে জনতা।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্মকর্তার ছিটানো টাকা ধরতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে জনতা।   © সংগৃহীত

করোনাভাইরাসের প্রকোপে বিশ্বজুড়ে লকডাউন অবস্থা চলছে। এতে বিভিন্ন শ্রেণীর পেশার মধ্যে একটু বেশিই বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষেরা। দৈনিক রুজি জোগাড় করা এসব মানুষের অধিকাংশই কর্মহীন হয়ে অনাহারে, অর্ধহারে দিন কাটাচ্ছেন। এরই মাঝে রাজধানীতে অভাবী মানুষের মাঝে টাকা বিতরণ করতে গিয়ে তোপের মুখে পড়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো: ইমদাদুল হক। টাকা বিতরণকালে অভাবী মানুষের হুড়োহুড়িতে ঘটা বিশৃঙ্খলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে গণমাধ্যমেও বিষয়টি ব্যাপক প্রচার পেয়েছে। প্রকাশিত ছবি এবং মানুষের প্রতিক্রিয়া বলছে, সরকারি ওই কর্মকর্তা টাকা ছিটাচ্ছেন--যাতে দাম্ভিকতা প্রকাশ পাচ্ছে। আবার টাকা ধরতে মানুষের হুড়োহুড়িতে মানুষের অভাবের করুণ চিত্রও প্রকাশ পেয়েছে বলে মত দিয়েছেন অনেকেই।

ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, হাতে মোটা একটি টাকার বান্ডিল নিয়ে রাস্তায় গরীবদের মধ্যে তা বিলি করছেন এক ব্যক্তি আর তাকে ঘিরে রেখেছে অসংখ্য মানুষ। অপর একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, নতুন একশো টাকার নোট পড়ে রয়েছে গাড়ির পেছনে রাস্তায়। সেগুলো কুড়িয়ে নিতে হুড়োহুড়ি করছেন অনেকে।

গরীবদের সাহায্য করতে গিয়ে ঢাকার সায়েন্স ল্যাব এলাকায় গাড়ি থেকে টাকা ছিটিয়েছেন বলে অভিযোগ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো: ইমদাদুল হকের বিরুদ্ধে।

ঢাকার প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক নিউএজ এর সিনিয়র ফটো সাংবাদিক ইন্দ্রজিৎ কুমার ঘোষের তোলা একটি ছবি ছাপাও হয়েছে পত্রিকাটিতে। তিনি নিজেও তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পাতায় যে পোষ্ট দিয়েছেন তাও ভাইরাল হয়েছে মুহুর্তেই। ওই পোষ্টের একটি কমেন্টে আহমেদ আতিফ আবরার লিখেছেন, "এতো রাজাদের আমলের সামন্ততান্ত্রিক মনোভাব।" অপর এক মন্তব্যকারী আজফার-ই-আলম লিখেছেন, "টাকা পয়সা সম্মান ঠিকই পাইছে কিন্তু বিবেক বুদ্ধিটা পায় নাই।"

যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আলী রিয়াজের এ সম্পর্কিত একটি পোষ্টও ভাইরাল হয়েছে ফেসবুকে। তাতে আজাদ আবুল কালাম মন্তব্য করেছেনন, "আমরাতো মধ্যযুগ অতিক্রম করতে পারিনি!"

এমন অসংখ্য মন্তব্য দেখা গেছে ফেসবুকে। এম শেহাব উদ্দিন লিখেছেন, "আমাদের সমাজে কিছু মানব প্রাণী অর্থ ও ক্ষমতায় উচ্চ হয়েছে কিন্তু মানবতা ও বিবেকের দিক দিয়ে উচ্চ হতে পারেনি।"   মূলত অর্থ বিলি করার পদ্ধতির কারণে এতো সমালোচনা হচ্ছে। এই অর্থের উৎস কি সেই প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে। আবার বাংলাদেশে উন্নয়ন নিয়ে সরকার যে গর্ব করছে রাস্তা থেকে টাকা কুড়ানোর এই দৃশ্য আসলে বাংলাদেশে দারিদ্রের চিত্র তুলে ধরছে কিনা সেই প্রশ্নও উঠেছে।

দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সিইও এর বক্তব্য : শাহ মো: ইমদাদুল হক বলছেন, তিনি সেদিন গাড়ি নিয়ে সায়েন্স ল্যাব এলাকা পার হচ্ছিলেন। করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে সবকিছু বন্ধ রয়েছে তাই বেকার বসে থাকা দরিদ্র মানুষজনকে তিনি কিছু অর্থ সহায়তা দেবেন বলে সেদিন গাড়ি থামিয়েছিলেন।

তিনি বলছেন, "ওইখানে অনেক মহিলারা দাঁড়ানো ছিল। সেখানে একজন পুলিশ ইন্সপেক্টর ছিল যার কাছে পরিচয় দিয়ে আমি সাহায্য চাইলাম। তিনি আশপাশে রাউন্ডে থাকা একটি গাড়িকে ডাকলেন। একটা লাইন তৈরি করার চেষ্টা করলাম। প্রথমে সবাই রাস্তার মাঝখানে মিডিয়ানের উপর দাঁড়িয়েছিল। আমি টাকা দিতে শুরু করলে কিছুক্ষণের মধ্যে লাইন ভেঙে আমাকে ঘিরে ধরল সবাই।"

তিনি বলছেন, "চারবার সবাইকে লাইনে দাড় করানোর চেষ্টা করলাম, প্রত্যেকবার তারা এসে ঘিরে ধরে আমাকে। এক পর্যায়ে সেই পুলিশ অফিসার আমাকে বললেন স্যার চলে যান আপনি। এভাবে দিতে পারবেন না। কিন্তু আমি তারপরও দিতে চেষ্টা করলাম।"

তিনি দাবি করেছেন, একপর্যায়ে তিনি গাড়িতে উঠে যান। ছবিতে দেখা যাচ্ছে লোকজন তার গাড়ি ঘিরে ধরে গাড়ির জানালা দিয়ে হাত ঢুকিয়ে দিয়েছেন।

"আমি আট হাজার টাকার মতো দিয়েছি এভাবে। এক পর্যায়ে তারা গাড়ি কাত করে ফেলছে এমন অবস্থা। যখন অবস্থা বেগতিক দেখলাম তখন হাতে যে বাকি টাকা ছিল সেগুলো রাস্তায় ফেলে দিয়েছি।" বলেন, তিনি নিজের ব্যক্তিগত অর্থ দান করতে গিয়েছিলেন সেদিন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল।

তবে সরকারি একজন কর্মকর্তা গাড়ি থেকে যেভাবে রাস্তায় নেমে মোটা বান্ডিল হাতে নিয়ে অর্থ বিলি করছেন সেটিকে বিত্তের দম্ভ বলেও সমালোচনা হচ্ছে।


সর্বশেষ সংবাদ