মোজাফফর আহমদের প্রতি সর্বস্তরের মানুষের শেষ শ্রদ্ধা

প্রবীণ রাজনীতিবিদ, মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)-এর সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের মরদেহের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানালেন সর্বস্তরের জনগণ। আজ শনিবার (২৪ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সর্বস্তরের জনগণের শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের জন্য মোজাফফর আহমদের মরদেহ আনা হয়।

এসময় তাঁর আত্মীয়-পরিজন ও গুণগ্রাহীসহ সর্বস্তরের মানুষ ফুল দিয়ে তাঁর মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা জানান। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মোজাফফর আহমদের মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। এসময় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদের) সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতার সহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, বাংলাদশের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জে এস ডি) সভাপতি সভাপতি আ.স.ম আব্দুর রব, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সহ-সভাপতি অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, শিক্ষাবিদ মমতাজ রশিদ, মুক্তিযোদ্ধা শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পক্ষে সভাপতি আয়েশা খানম, সাবেক ছাত্রনেতা কামরুজ্জামান আনসারী, রাজনৈতিক বিশ্লেষক সাবেক ছাত্রনেতা সুভাস সিংহ রায়, মুকুল চৌধুরী, গণতন্ত্রী পার্টির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন সহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের অনেক নেতৃবৃন্দ মোজাফফর আহমদের মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

এছাড়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড.মো. আখতারুজ্জামান ও আইন বিভাগের অধঅধ্যাপক মিজানুর রহমানসহ অনেক শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।

অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এসে হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ একজন জাতীয় নেতা। তিনি সমাজতন্ত্রের আজীবন একনিষ্ঠ একজন সাধক। আদর্শের ভিন্নতা থাকলেও তিনি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে জাতীয় প্রশ্নে একসাথে কাজ করেছেন। বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সমগ্র উন্নয়নেই ওনি অগ্রনী ভুমিকা রেখেছেন।

তিনি বলেন, ‘তার সবচেয়ে বড় গুণ ছিলো আদর্শের প্রশ্নে তিনি কোনো আপোষ করেননি। তিনি আপোষহীন ছিলেন উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে, সামপ্রদায়িকতার বিরুদ্ধে, সামরিক শাসকদের বিরুদ্ধে, বৈষম্যের বিরুদ্ধে। আজকের প্রজন্ম যদি তাঁর কাছ থেকে কিছু শিখতে চায় সেই শেখাটা হচ্ছে যে নৈতিকতার ওপরে দাঁড়ানো, আদর্শের ওপরে দাঁড়ানো এবং দলবাজি-ক্ষমতাবাজি থেকে দূরে থাকা। তার শূণ্যতা পূরণ করা যাবে না।

প্রসঙ্গত, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে সম্মানসহ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে একই বিভাগে ১৯৫২ সালে শিক্ষকতা শুরু করেন। পরে ১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ছেড়ে তিনি রাজনীতিতে আত্মনিয়োগ করেন।

অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ গতকাল শুক্রবার (২৩ আগস্ট) রাত ৭টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে মৃত্যু বরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৮ বছর। আজ শনিবার সকাল ১১টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মোজাফফর আহমদের প্রথম জানাজা এবং পরে তাকে রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

জানাজায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, সিপিবি নেতা মুজাহিদুল ইসলাম, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বায়তুল মোকাররম মসজিদে তাঁর দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল রোববার কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা নিজ গ্রামে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের দাফন সম্পন্ন করা হবে বলে জানা গেছে।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ