শহীদ মিনারে সকলের ভালোবাসায় সিক্ত সুবীর নন্দী

বুধবার বেলা ১১টার দিকে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হয় একুশে পদক পাওয়া সংগীতশিল্পী সুবীর নন্দীর মরদেহ। সেখানে শেষ বারের মতো শ্রদ্ধা জানানোর জন্য উপচে পড়া ভিড় জমায় অসংখ্য মানুষ।

এ সময় কিংবদন্তীর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তার স্ত্রী ও কন্যাকে কাঁদতে দেখা যায়। শ্রদ্ধা জানাতে আসা দেশের শিল্পী সমাজ ও ভক্তদের অশ্রুসিক্ত দেখা যায়। কেউ কেউ আবার আড়ালে মুছেছেন চোখের পানি।

কিংবদন্তীকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সংগীত, চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের গুণী মানুষ ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক রাজনৈতিক সংগঠনকে ফুল নিয়ে উপস্থিত দেখা যায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।

এ সময় সুবীর নন্দীকে শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন গণপূর্ত মন্ত্রী রেজাউল করিম, নাট্য ব্যক্তিত্ব রামেন্দ্র মজুমদার, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দিন ইউসুফ, রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, খুরশিদ আলম, সংগীতশিল্পী রফিকুল আলম, গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীর, গীতিকবি শহীদুল্লা ফরায়েজী, ফুয়াদ নাছের বাবু, নকীব খান, শুভ্রদেব, এসডি রুবেল, চিত্রনায়ক উজ্জ্বল, চিত্রনায়িকা নূতন প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ও হার্টের অসুখে ভুগছিলেন সুবীর নন্দী। গত ১২ এপ্রিল পরিবারের সবাই মিলে মৌলভীবাজারে আত্মীয়ের বাড়িতে যান। সেখানে একটি অনুষ্ঠান ছিল। ১৪ এপ্রিল ঢাকায় ফেরার ট্রেনে ওঠার জন্য বিকেলে মৌলভীবাজার থেকে শ্রীমঙ্গলে আসেন তারা।

এ সময় ট্রেনেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তারপর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাত ১১টার দিকে তৃপ্তি করের সহযোগিতা ও তত্ত্বাবধানে শিল্পীকে দ্রুত সিএমএইচে নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ মোতাবেক সিএমএইচ থেকে সিঙ্গাপুর গত ৩০ এপ্রিল সিঙ্গাপুরে নেয়া হয় তাকে সুচিকিৎসার জন্য। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৪টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সুবীর নন্দী।

১৯৭৬ সালে সুবীর নন্দী প্রথম আবদুস সামাদ পরিচালিত ‘সূর্যগ্রহণ’ চলচ্চিত্রে গান করেন। চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করে পাঁচবার জাতীয় পুরষ্কার লাভ করেন সদ্য প্রয়াত এই কিংবদন্তী।


মন্তব্য