স্বদেশীদের উদ্ভাবনে আপনি আনন্দিত নন কেন?

এসএম নাদিম মাহমুদ  © ফেসবুক

বাংলাদেশে অন্তত আড়াইশোর বেশি ঔষধ কোম্পানি রয়েছে, পঞ্চাশটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, এতো কিছুর পরও করোনাভাইরাস ঠেকাতে তেমন একটা তাদের কাছে পায়নি বাংলাদেশ। ঔষধ কোম্পানিগুলো প্রতি বছর তাদের ডাক্তারদের চেম্বারে ঘুরে ঘুরে যেসব উপহার দেন, সেই অর্থের শতভাগের একভাগও রিসার্স আন্ড ডেভলমেন্টে খরচ করে কি না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ নিশ্চয় অমূলক হবে না।

তবে এতো কিছুর নাই, নাই মধ্যে অন্তত একটি ঔষধ কোম্পানি করোনা ভাইরাসে বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এগিয়ে আসার যে সাহস দেখিয়েছে সেটিই বা কম কিসের?

এতোদিন তো আমরা অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ChAdOx1-S ভ্যাকসিনের শুরু থেকে উল্লাস করে বেড়ালাম, মনে হলো, এই ভ্যাকসিন বুঝে আমার দেশের জন্য তৈরি হচ্ছে, অথচ আজ দেশেরই গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালস করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের কথা যখন ঘোষণা করলো, তখন আমরা নিশ্চুপ হয়ে গেলাম।

দেখুন: বাংলাদেশে করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দাবি

অদ্ভুত জাতি আমরা। এই জাতি বিসিএস ক্যাডারদের অভিনন্দন জানিয়ে বেড়ায়, নেতাদের পদ-পদবীতে শুভেচ্ছার বন্যা এনে দেয়, সেই জাতি আজ গ্লোবের ভ্যাকসিনের কথা শুনে চোখ কপালে তুলেছে।

বলি কি, বিশ্বে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪৯ টি ভ্যাকসিন ক্যান্ডিডেট ডব্লিউএইচও যে লিস্ট করেছে, সেখানে ১৫০ তম ভ্যাকসিনের তালিকায় যদি বাংলাদেশের নাম ঢুকে তাতে ক্ষতি কি?

ভ্যাকসিনটি সফল হবে না, আদৌও সম্ভব কি না, তা নিয়ে না হয় পরে প্রশ্ন করা যাবে, টেকনিক্যাল বিষয় নিয়ে কথা হবে। তবে আপাতত এই ভ্যাকসিনের পিছনে লেগে থাকা মানুষদের অন্তত শুভেচ্ছা জানাই। যারা অন্তত গণস্বাস্থ্যের মত কিট তৈরি করার আগে মিডিয়া বলে বেড়ায়নি, যে তারা সফল হয়েছে।

আসলে, বিজ্ঞানের আবিষ্কারগুলোর খবর এমনই হওয়া উচিত। কেবল উদ্ভাবনের পরই আপনার কাজ শেষে সেটি গবেষণাপত্রে প্রকাশ হবে, সংবাদ সম্মেলনে নিজের আবিষ্কারের সবদিকগুলো সায়েন্টিফিক্যালি তুলে ধরবে বিশ্বের কাছে।

১৪৯টি ভ্যাকসিন তো আর সফল হবে না, সেখানে না হয় আমাদের দেশেরটাও হলো না, তাতে আমার পরিতাপ হবে না। তবে এইটুকু ভেবে আনন্দিত যে, কেউ একজন অন্তত এই আপদকালিন সময়ে বাংলাদেশকে উঁচু করার চেষ্টা করতেছে। অনুরোধ শুধু একটায় ভ্যাকসিনের প্রতিযোগিতার দৌড়ে তারা যেন মিসকন্ডাক্টিং না করে, মিডিয়ার প্রচারের চাপে মূল কাজ থেকে সরে না আসে, অন্তত লেগে থাকুক, সফলতা-ব্যর্থতার হিসেব না হয় আর একদিন করা যাবে।

লেখক: পিএইচডি গবেষক, ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাপান


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ