সিরিয়ায় মহামারির সময় ইবনে বতুতার অভিজ্ঞতা

বিখ্যাত মুসলিম পরিব্রাজক ইবনে বতুতা বিশ্ব ভ্রমণের সময় যখন সিরিয়ার দামেস্কে ছিলেন, তখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এক মারাত্মক মহামারি চলছিলো। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছিলো। এই মহামারি থেকে রক্ষা পেতে কি করেছিলো সেখানকার প্রশাসন ও জনগণ? চলুন সরাসরি ইবনে বতুতা থেকেই শুনি—

১৩৪৮ সালের জুলাইয়ের শেষদিকে আমি যখন পশ্চিম থেকে দামাস্কাস হয়ে ফিরে আসছি, তখন সেখানে ভীষণ মহামারি চলছে। সে সময়ে মানুষ কিভাবে এই আল-আকদাম মসজিদের (দামাস্কাসের একটি প্রসিদ্ধ মসজিদ) উপর নির্ভর করে ছিল সে অবিস্মরণীয় দৃশ্য আমি দেখেছি। সে সময় দামাস্কাসের গভর্নর আরগুন শাহ্ রাজকীয় ঘোষকের মাধ্যমে নগরবাসীকে জানিয়ে দিলেন, মহামারি থেকে বাঁচতে তাদেরকে তিনদিন রোজা রাখতে হবে এবং এই ক’দিন দিনের বেলা বাজারে কোনকিছু রান্না হবে না। শহরটির লোকেরা বাড়ির খাবার নয়, দোকানে রান্না করা খাবারের প্রতি বেশি নির্ভরশীল ছিল। গভর্নরের নির্দেশ স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালিত হলো, পরপর তিনদিন রোজা রাখলো দামাস্কাসবাসী।

শেষ রোজার দিন বৃহস্পতিবার ছিল। সেদিন সন্ধ্যার পর শহরের প্রধান মসজিদে জড়ো হলো তারা; আমির, শরীফ, কাজীসহ শহরের সর্বস্তরের মানুষের ভিড় ক্রমে বাড়তে লাগলো। এক সময়ে মানুষে মানুষে পুরো এলাকা ভরে উঠলো। রাতটা নামাজ পড়ে কাটালেন সবাই, ভোরবেলা ফজরের নামাজের পর কোরআন শরীফ হাতে দলে দলে পথে নেমে এলো সবাই। আমিররা থাকলেন খালি পায়ে।

কিছুক্ষণ পর শহরের অন্যসব ধর্মের অনুসারীসহ দামাস্কাসের প্রতিটি মানুষ তাদের সঙ্গে যোগ দিল। নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ কেউ বাদ থাকল না। ইহুদিরা এলো তাদের বুক অফ দ্য ল নিয়ে, খ্রিস্টানরা গসপেল নিয়ে।

দলবেঁধে আল-আকদাম মসজিদ এলো সবাই, সেখানে নিজের নিজের ধর্মগ্রন্থ বুকে চেপে ধরে কেঁদে কেঁদে সৃষ্টিকর্তার কাছে মহামারির হাত থেকে মুক্তির আবেদন জানাতে লাগল।

প্রায় দুপুর পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে শহরে ফিরে এসে প্রধান মসজিদে জুমার নামাজ পড়লো তারা। আল্লাহ্ তাদের আকুল আবেদনে সাড়া দিলেন। দামাস্কাসে সেদিন দু’হাজারেরও কমে মানুষের মৃত্যু হয়, অথচ একই দিনে কায়রো এবং পুরনো কায়রোর মৃতের সংখ্যা ছিলো চব্বিশ হাজারেরও বেশি।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ