১৪ জানুয়ারি ২০২০, ১২:৪১

“আধুনিকতার ছোঁয়ায় অসভ্যতা”

  © টিডিসি ফটো

আধুনিকতার সাথে সাথে সভ্যতা আসার কথা ছিল কিন্ত মেট্রো ওয়াশিংটনে বাংলাদেশী কমিউনিটিতে সভ্যতার ব্যানারে অসভ্যতা। বর্তমানে এই অসভ্যতা মহামারী আকারে চারিদিকে ছড়িয়ে পরছে। যেখানেই তাকাই সেখানেই দেখি এই অসভ্যতা। অনেকেই বলে এই অসভ্যতার জন্য দায়ী টাকা। কথাটি আমি পুরোপুরি মেনে নিতে পারছি না। বেঁচে থাকার জন্য টাকার প্রয়োজন সত্যি, তারমানে এই নয় টাকার জন্য নগ্ন হতে হবে! প্রয়োজনের অতিরিক্ত টাকা বানানো একটি রোগ,একটি অসুস্থতা। একবার যে টাকা বানাতে থাকে, তার শুধু টাকা বানাতেই ইচ্ছা করে। অনেকেই দেখছি টাকার নেশায় পেয়েছে, যেই বউটি বাসায় ফিরলে খাবারটি টেবিলে সাজিয়ে দিত, কাজে যাওয়ার সময় জামা কাপড় গুছিয়ে দিত, সেই বউকে স্কুলে পাঠিয়েছে পড়ালেখা করে বড় চাকুরী নেবে ,মডার্ন হবে! হ্যাঁ,মডার্ন হয়েছে ঠিকই কিন্ত ভাগ্যের নির্মম পরিহাস সেই বউ পড়ালেখা শেষ করার আগেই আরেকজনের হাত ধরে চলে গেছে। আবার অনেকের ছেলেমেয়েরা ঠিকমতন পড়ালেখা করে না কিন্তু সময়মত মাদকাসক্ত হয়, এবং নগ্ন ভাবে চলাফেরা করে। এমন চলাফেরার কথা জানতে চাইলে বলে এই আধুনিক যুগে এভাবেই তো চলতে হবে! আধুনিক যুগে কি বলেছে ছেলেদেরকে কানে দুল, নাকে দুল,জিহ্বায় রিং,চোখের উপরে রিং,ঠোঁটে রিং লাগাতে,এবং মেয়েদের কানে, নাকে নাভিতে নাভির নীচে, জিহবায়, ভোমরার উপরে ও নিপলে রিং লাগাতে? শুধু তাই নয় এই মেট্রো ওয়াশিন্টনে একেকজন নারীর দুই দুই জন করে স্বামী এবং একেকজন স্বামীর দুই দুই জন স্ত্রী, তাঁরা সময় মেন্টেন করে বসবাস করে! এই সমাজের সবাই জানে এদের অসভতা। ওদের কাছে জানতে চাইলে কেন এভাবে বসবাস করছেন? তার উত্তর আমি যদি তাকে বিবাহ বিচ্ছেদ করি তাহলে আমার বিজনেস বাড়ি গাড়ি তাকে ৫০%দিতে হবে। আমি তাকে কানা কড়িও দিব না। সে যা মনে চায় তা করুক! পারলে তিনজন স্বামী নিয়ে একসাথে ঘুমাইউম! আমার কিছুই আসে যায় না। ওমাই গড! কি বলে! এইটা তো মানুষ না , এইটা পুরাই অ-মানুস হয়ে গেছে। টাকায় ওদের মনুষ্যত্ব ও সভ্যতা খেয়ে ফেলেছে।

এই অসভ্যতার জন্য অর্ধেক দায়ী আমাদের কমিউনিটি আর বাকী অর্ধেক দায়ী বাবা মা। অনেকেই আমার সাথে একমত হবেন না জানি। কিন্তু যদি ভালো করে দুই নয়ন মেলে দেখেন তখন দেখবেন এই সমস্ত অসভ্যরা যখন অসভ্যতা শুরু করে তখন ওদের অসভ্য বাবা মাগুলো ওদেরকে বাহ বাহ দেয় আর এদের বাহ বাহ দেখে কমিউনিটির আমজনতা অসভ্যদেরকে আধুনিকতা বলে গ্রহণ করে নেয়। কিন্তু কমিউনিটির অতি সাধারন মানুষ ওদের অসভ্যতার কথা জানতে চাইলে ওরা বলে আপনাদের এই ব্যাপারে মাথা ঘামানোর দরকার নাই। আপনাদের কাজ কর্ম আপনারা করেন এদিকে খেয়াল দেবার দরকার নাই।

পরিশেষে সবাইকে বলছি আসুন আমাদের ছেলে মেয়েদেকে সভ্যতা শিখাই এবং নিজেরাও সভ্য হয়ে চলি। আর কমিউনিটিতে যে সব অসভ্য আছে তাদেরকে সভ্য পথে আনার চেষ্টা করি। আমিন।