০৮ নভেম্বর ২০১৯, ২০:০১

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ‘বসন্ত’ ভাবনা

  © টিডিসি ফটো

২০১০ সালের শুরু থেকে আরবের বিভিন্ন দেশে যে গণবিপ্লব হয়েছিল পশ্চিমারা তার নাম দিয়েছিল আরব বসন্ত। সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলনও অনেকটা আরবের বসন্তের মতো। ভিসিদের লাগামহীন লুটপাট, অনিয়ম ও আত্মীয় প্রীতির বিরুদ্ধে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সুন্দর বাংলাদেশের ইংগিত বহন করে না? নিশ্চয় করে।

আন্দোলনের মুখে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি স্যার ক্যাম্পাস ছেড়েছেন। শিক্ষার্থীদের যে মনে হলেই রাজাকারের বাচ্চা বলা যাবে না, তা তিনি শিক্ষার্থীদের টানা ৩৫ দিনের আন্দোলনে হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন। ওনি হয়তো এই শরমে কিছুটা হলেও বদলে গেছেন। তবে বদলে যাননি অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যগণ। বদলে গেলে এরপরেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে এমন নাস্তানাবুদ হয়ে ক্যাম্পাস ছাড়তে হতো না।

অন্যায় অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলন হলেই একদল লোক রাজাকার খোঁজেন, জামাত খোঁজেন, শিবির খোঁজেন। কিন্তু কেন খোঁজেন? এর মূল কারণটা এমনও হতে পারে যে, আন্দোলনকারীদের জামায়াত-শিবির বললে নিজে দুধে ধোয়া তুলসী পাতা হওয়া যায় অথবা ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলের জন্য এই জামায়াত-শিবিরের গন্ধ খোজা হতে পারে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি কেন জামায়াত-শিবির খোঁজছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে অনেকে বলেছেন যারা জীবনভর বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অসাম্প্রদায়িকতার জন্য লড়াই করেছেন তাদেরকে শিবির বলা বেমানান। শুধু ভিসিত্ব রক্ষা করার জন্যেই তিনি এমন মন্তব্য করতে পারেন।

আমি মনে করি এই জামায়াতের গন্ধ শুধু জাহাঙ্গীরনগরে নয়, এই গন্ধ এখন সারা দেশে। যারা জীবনভর সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন তাদেরকে এমন ট্যাগ দেওয়ার উদ্দেশ্যটা কি হতে পারে? এমনো হতে পারে যৌক্তিক আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা, না হয় নিজে বিপদ মুক্ত হয়ে আন্দোলণকারীদের বিপদে ফেলা। তবে এই প্রশ্নের উত্তর জাহাঙ্গীরনগরের ভিসি ম্যাম ভালো বলতে পারবেন।

এতোকিছুর পরেও শিক্ষার্থীরা দিনভর আন্দোলন করছে রাতভর কনসার্ট করছে। আমার মনে হয় বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে বসন্ত এসেছে, শিক্ষক শিক্ষার্থীরা দুর্নীতিবাজ প্রশাসন চায় না।

লাগামহীন দুর্নীতি আর অনিয়মের বিরুদ্ধে শিক্ষক শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধ হওয়া শুরু করছে, টানা আটদিন যাবৎ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠে প্রতিবাদ করে যাচ্ছে। এসবকিছু দেখে মনে হয় বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে আসলেই বসন্ত এসেছে।

 লেখক: শিক্ষার্থী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।