আবরার হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই পুনরাবৃত্তি রোধ করতে পারে

বুয়েটে আবরার হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই পারে এরকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে। তা না হলে এসব চলতেই থাকবে। দল বদলাবে। মত বদলাবে। কিন্তু এসব চলতেই থাকবে। আর একেকটা পরিবার পঙ্গু হবে। দলে দুর্বৃত্ত প্রয়োজন নাই। দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। এখন না পারলে কখনোই হবে না। দেশ একটা সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পার্টিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে অপরাধীকে ছাড় দেওয়ার কয়েক যুগের চলমান সংস্কৃতির পরিবর্তন চাই এখন।

ছাত্রলীগ ছাত্রলীগ বলে মুখে ফ্যানা তুলে সিমপ্যাথি দেখানো বা দুর্বৃত্তায়নকে পলিটিসাইজ করার কোনো সুযোগ নাই, থাকা উচিত নয়। ২০০৮ এর ৩১ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনের আগে দেখেছি ছাত্রলীগ কয়জন করে। পরে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর, ছাত্রলীগের মিছিলে নীলক্ষেত নিউমার্কেটের ভিড়ের চেয়েও বেশি ভিড় দেখেছি।

পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে-পরের সময়টায় হুট করেই তুমুল ভিড়গুলো শ্মশানের মতো খালি হয়ে যেতে দেখেছি। সরকার বদলে যাবে এই ধারণা থেকে পদ পাওয়ার পরও তা প্রত্যাখানও করতে দেখেছি, অল্প কয়েকজনে পরিণত হতে দেখেছি ক্ষমতার মধ্যগগনে তুমুল ভিড়ের ছাত্রলীগকে।

দেখা হয়ে গেছে কারা কতো পার্টিজান, কারা কতো ছাত্রলীগ করে। হাতে গোনা কয়েকটা মানুষ ছাড়া কোথাও কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি বড় দুই সংকটে।

মোর্দা কথা হলো, ছাত্রলীগটা হম্বিতম্বি করার জিনিস না, লালন করার ব্যাপার এটা, আবেগ লাগে, বুকের মধ্যে ভালোবাসা লাগে, রাজপথে বুক উঁচিয়ে চলার সাহস লাগে। রাতের অন্ধকারে দলবল নিয়ে একাকী নিরীহ কাউকে ডেকে নিয়ে পেটানো ছাত্রলীগের কাজ না।

এরা আসলে ছাত্রলীগ করে না, ছাত্রলীগকে এরা ব্যবহার করে। খুনীরা ছাত্রলীগের পদধারী ছিল। তাতে কিছুই যায় আসে না। কোনো যুক্তি দিয়ে এই নৃসংশতাকে লিগ্যালাইজ করা যায় না, বিকৃত মস্তিস্কের না হলে কেউ সেই চেষ্টাও করবে না, কোনো বিবেগবান মানুষের পক্ষে এটা মেনে নেওয়া সম্ভব না। এই খুনীদের ফাঁসি চাই। ফাঁসি চাই। ফাঁসি চাই।

কবি ও সাহিত্যিক


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ