বশেরমুরবিপ্রবি স্বৈরাচার ভিসির পদত্যাগ শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি

  © ফেসবুক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার কারণে ডেইলি ক্যাম্পাস ও ডেইলি সানের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেরমুরবিপ্রবি) প্রতিনিধি ও আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফাতেমা-তুজ-জিনিয়াকে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

জিনিয়াকে বহিষ্কারের প্রেক্ষিতে ঢাবি, জাবি, জবি সাংবাদিক সমিতিসহ দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়স্থ সাংবাদিক সমিতি প্রশাসনের এই স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাবের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার দাবি জানিয়েছে। সেখানে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় হলো, বশেরমুরবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতি উল্টো সমিতি থেকে জিনিয়ার সদস্যপদ প্রত্যাহার করেছে। প্রশাসন কতটা অপশক্তিসম্পন্ন, ক্ষমতাধর ও স্বৈরতান্ত্রিক হলে নিজের পিতৃতুল্য প্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কার করে দেয়।

এখানে একটা বিষয় সহজেই অনুমেয়, বশেরমুরবিপ্রবি প্রশাসনের কাছে শিক্ষার্থী, সাংবাদিক সমিতিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা সকল সহযোগী সংগঠন কতটা অসহায়।

এছাড়া এর আগে ধানের বিক্রি মূল্য কম নিয়ে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী সামান্য আন্দোলন মানববন্ধনে দাঁড়ালে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ভাবে হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে বশেরমুরবিপ্রবি ভিসির নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের হাতে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হওয়ার কথা ছিলো শিক্ষার্থীবান্ধব। কিন্তু আমরা দেখছি পুরো উলটো চিত্র। দলের ‘দয়ার’ কিংবা দলীয় রাজনৈতিক মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া এসব প্রশাসনিক লোকজন শিক্ষার্থী বান্ধব না হয়ে বরাবরই শিক্ষার্থীদের সকল যৌক্তিক আন্দোলনের বিপক্ষে দাঁড়ায়। শিক্ষার্থীদের উপর বিভিন্ন সময়ে অন্যায়ভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়।

এসব দলকানা দলদাশ প্রশাসনের কাঠগড়ায় দাড় করানোর উপযুক্ত সময় এখনি।

এখন জিনিয়ার প্রসঙ্গে আসি। ওর সমস্যা হলো...

* বশেরমুরবিপ্রবি প্রশাসনের বিভিন্ন অনিয়মের খবর সে জানে।
* ভিসির বিরুদ্ধে নারীঘটিত যে অভিযোগ রয়েছে সেই তথ্য প্রমাণ জিনিয়ার কাছে রয়েছে।
* বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নের প্রকল্পের দুর্নীতির তথ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের এই প্রতিনিধির কাছে রয়েছে।
* ভিসি কর্তৃক নিজের পছন্দের লোককে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দেওয়ার যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত ও হাতে এসেছে তার।
* রেওয়াজ আছে, বেশি টাকা হলেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ পাওয়া যায়। এ অভিযোগের তীরও ওই ভিসি বিরুদ্ধে। এসব সমসাময়িক বিষয়গুলো নিয়ে সে জানাটাই তার অপরাধ।

সমসাময়িক সময়ে হওয়া দেশের প্রতিটি যৌক্তিক আন্দোলনে নীতি-নৈতিকতার সাথে জিনিয়া কাজ করেছে। সকল নৈতিক বিষয়ে সমর্থন জানিয়েছে, প্রশাসনের ‘রক্ত’ চক্ষুকে উপেক্ষা করে।

সুতরাই প্রশাসনের অন্যায়ভাবে দেয়া এই বহিষ্কারাদেশে সাহসী জিনিয়া চিন্তিত হয়ে পড়েছেন বলে মনে করিনা। তবে বশেরমুরবিপ্রবি ভিসিসহ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা সময় থাকতে নিজেদের অন্যায়, লুটপাট ও স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাবকে দূর করতে না পারলে এদেশের শিক্ষার্থীরা যে তার সমুচিত দিতে পারে তার প্রমাণ গত বছরে যেমন শিক্ষার্থীরা দিয়েছে তেমনি সাধারণ শিক্ষার্থীরাও ‘শিক্ষার্থী বান্ধব’ এই সাংবাদিকের পাশে দাঁড়াবে, তার পক্ষে কথা বলবে, সমুচিত জবাব দিবে।

জিনিয়াকে বহিষ্কারাদেশের পর আজ সোমবার মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কর্তৃক মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে বক্তারা জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার দাবি করেছেন। এছাড়া অযোগ্য দুর্নীতি পরায়ণ প্রশাসনের ভিসির পদত্যাগ দাবি করেছেন। পাশাপাশি ক্যাম্পাসভিত্তিক সাংবাদিকদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ ক্যাম্পাস জার্নালিস্ট ফেডারেশন’ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারসহ সুনির্দিষ্ট কিছু দাবি নিয়ে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে।

এ নিয়ে আগামীকাল কর্মসূচি ঘোষণা করেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির সদস্য ও প্রতিটি বিবেকবান শিক্ষার্থীর প্রাণের দাবি হয়ে উঠছে, ‘বশেরমুরবিপ্রবি স্বৈরাচার ভিসির পদত্যাগ ও সময়ের সাহসী কলম যোদ্ধা জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার।’

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ