ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠুক

শরিফুল ইসলাম  © সংগৃহীত

শিক্ষার্থীদের যেকোন যৌক্তিক আন্দোলনে জিনিয়ার কলম কথা বলেছে। প্রশাসনকে তোয়াক্কা করেনি। তাদের স্বৈরাচরী আচরণের বিরুদ্ধে লিখে কখনো কখনো রোষাণলে পড়েছে। তবুও হাল ছাড়েনি। জিনিয়ার নির্ভীক সাংবাদিকতার গল্প শুনে শিহরিত হতাম। ক্যাম্পাস সাংবাদিকতারে চ্যালেঞ্জ, হুমকি ও অনিরাপত্তা নিয়ে মাঝেমাঝে হতাশার কথাও জানাতো। হতাশ হলে অভয় দিয়ে বলতাম- আমরা পাশে থাকবো।

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফাতেমা তুজ জিনিয়া একটি জাতীয় দৈনিকের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনিয়ম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও লেখালেখির কারণে সম্প্রতি তাকে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

কথায় কথায় শিক্ষার্থীদের শোকজ দেওয়া, বহিষ্কার করা এই প্রশাসনের এখন নৈমিত্তিক কান্ড । গত ছয়মাসে ২১ জন শিক্ষার্থীকে শোকজ নোটিশ প্রদান করা হয়েছে এবং বহিষ্কার করা হয়েছে ৭ জনকে। শোকজ নোটিশপ্রাপ্ত ২১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ছয়জনকে ফেসবুক স্টাটাসের জন্য নোটিশ প্রদান করা হয় এবং বাকি ১৪ জনকে ধানের ন্যায্যমূল্য চেয়ে মানববন্ধন করায় নোটিশ প্রদান করা হয়। এসব অনিয়ম, ভিসির স্বৈরাচারী আচরণ, প্রশাসনের খামখেয়ালিপনা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুক্তমত প্রকাশ হলেই বৈরী আচরণ শুরু করে প্রশাসন। তারই বহিঃপ্রকাশ- জিনিয়ার বহিষ্কার।

আরো উৎকন্ঠার বিষয় হলো, গতকাল ভিসি ও তার অনুগতরা জোরপূর্বক জিনিয়ার ‘স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি’ আদায়ের চেষ্টা করেছে। এ সময় আত্মপক্ষ সমর্থন করে প্রদত্ত তার কোন বক্তব্যই গ্রাহ্য করেনি; উল্টো অপমান, অপদস্থ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির সাংবাদিক সমিতি থেকে তাকে প্রত্যাহার করার জন্য বাধ্য করেছে।

এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে সারাদেশের সাংবাদিকতা বিভাগ, ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠুক। যাতে এ ধরনের ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি না হয়। এমন দৃষ্টান্ত স্থাপনে প্রশাসন আর যেন ধৃষ্ঠতা না দেখায়।

অবিলম্বে জিনিয়ার বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানাই।

লেখক: শিক্ষক, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ