দেয়ালে পিঠ না, মুখ ঠেকিয়ে আছে লাখো গ্রাজুয়েটের

প্রতিদিন গড়াতে গড়াতে ক্লাসে যাওয়া, এটেন্ডেন্সের আশায় দল বেধে ক্লাস রুম পাহারা দেয়া, আড্ডা গল্প, চায়ের দোকানে বন্ধু-বান্ধবের চরিত্র বিশ্লেষণ করা। ঠিক আজও তাই করেছি, গতকালও তাই করেছি।

সারাদিন ঘাম ঝরিয়ে যখন টিউশন শেষ করে রুমে ফিরি, তখনই মায়ের ফোন আসে। ‘বাবা কবে পড়াশোনা শেষ করে চাকুরী করবা’। এই প্রশ্নের প্রেক্ষিতে বুকের ভিতরটা হুহু করে উঠতেই মনে হলো, এই তো প্রতিদিন একটু একটু করে শিখছি যা দিয়ে চাকুরী টা হয়েই যাবে।

এইটা যে শুধু আমার হচ্ছে তা না, ভেবে দেখুন হয়তো আপনারও এমনটাই মনে হচ্ছে। দিনশেষে তবুও একটু ইচ্ছে হয় যে চাকুরী বাজারের প্রশ্নপত্র সমীক্ষা গুলো ঘেঁটে দেখি, এ কি হায়।

শিখেছি কি আর চাকুরী বাজার চাইছে কি? দুইটা তো দেখি সমান্তরালে চলছে। কারো কাছে কেউ ঘেঁষছে নাহ। তাহলে কি হলো এই ৪ বছরে? এই ভেবেই দেয়ালে পিঠ না, মুখ ঠেকিয়ে আছে লাখো গ্রাজুয়েট।

কিসের আশায় জীবন সংগ্রাম চালিয়ে গেলাম এতদিন, চাওয়া পাওয়ার হিসেবটা বড্ড গড়মিলে পরিণত হলো। শুধুমাত্র এটেন্ডেন্সের আশায় ৪টা বছর পার করে দিলাম, বিনিময়ে পেলাম একটা ছাড়পত্র। যা দিয়ে শুধু ভাব নেয়া যায়, চাকুরী পাওয়া যায় না।

নিজেকে খুব বোঝা মনে হচ্ছে, কি জবাবদিহি করবো ওপাশে থাকা বাবা-মাকে? তারা কত স্বপ্ন নিয়ে বসে আছে, ছেলে আমার মস্ত বড় চাকুরী করবে।

একদল জ্ঞানী মনীষীরা বলতেন শিক্ষা গ্রহণ শুধু চাকুরী অর্জনের জন্য নাহ, তা কিসের জন্য ভাই? অঢেল সম্পত্তি ঘরের সিকায় রেখে এরকম কথা বলা যায়, কিন্তু ২০১৯ এ এসে তা শুধু বইয়েই সীমাবদ্ধ। উঁচু আসনে বসে থাকা উনারা যদি আমাদের একটু এসব ক্যারিয়ার কেস গুলাতে ছাড় দিতেন। পড়াশোনার পাশাপাশি ক্যারিয়ার গড়ার জন্যে সুযোগ করে দিতেন। তাহলে হয়তো সমস্যা কিছুটা সমাধানের রূপ নিতো।

তাছাড়া ছাত্রজীবনে প্রেম-পড়াশোনা-টিউশনি-জব প্রিপারেশন এক সঙ্গে কোনটাই ঠিকঠাক হয় না, ব্রেনকে চারটি কাজ সমভাবে করার আদেশ দিলে হয়তো নিজের জন্য আর কিছুই বাকি থাকবে না। নিজেকে সময় দেয়া কিংবা নিজেকে নিয়ে ভাবার, নিজের মনের সঙ্গে আত্মার সঙ্গে সুখ-দুঃখ ভাগাভাগির সময় টাও হয়তো পাওয়া যাবে নাহ।

শিক্ষার্থী: যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়


মন্তব্য