ইউজিসির মেধা পাচারের উস্কানি!

গতকাল ইউজিসি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিন্ন শিক্ষক নিয়োগনীতির খসড়া কিছুটা পরিমার্জন করে অনেকটা চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গেছে। আমরা যারা গত কয়েকদিন ধরে অভিন্ন শিক্ষকনীতির পরিবর্তন চেয়েছিলাম, তাদের আশায় বালি ছিটিয়েছে ইউজিসি।

তারা এসএসসি, এইচএসসি জিপিএ আর স্নাতক/স্নাতকোত্তরের সিজিপিএ ভর করে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় নিয়োগ দেয়ার অবস্থান থেকে নড়েনি। বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাকে ধ্বংস করার ঠিক কিনারায় দাঁড়িয়ে ফেলছেন তারা। শুধুমাত্র সনদ নির্ভর গ্রাজুয়েট তৈরি করে, দেশের বারটা বাজানোর যে লিপ্সা তারা দেখছে তা অত্যন্ত জঘন্য কাজ।

আগে একটা সময় ছিল, যখন পিএইচডি বলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষকদের মধ্যে কুক্ষাগত ছিল। এইসব শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার পূর্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করে পিএইচডি করার কল্পনা করেছিল না, কিন্তু গত কয়েক দশক ধরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মানসিকতার মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। এখন অনেকেই অনার্স শেষ করে দেশের বাহিরে পড়াশুনার সুযোগ পাচ্ছেন। প্রতি বছর কয়েক হাজার শিক্ষার্থী পিএইচডি করছে দেশের বাহিরে। এদের অনেকেই দেশে ফেরার জন্য উন্মুখ হয়ে বসে আছেন। সরকারের উচিত ছিল, দেশে এইসব মেধাবীদের ফিরে আসার সুযোগ তৈরি করে দেয়া।

অথচ, আমাদের নীতি নির্ধারকরা সিদ্ধান্ত নিতে চলছেন, যে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হওয়ার জন্য পিএইচডির কোন গুরুত্ব নেই। যে ছেলে পিএইচডি করলো, পোস্টডক করলো, তারা যখন দেশের হাল ধরতে চাচ্ছে, ঠিক তখনই ইউজিসি জিপিএ-সিজিপিএ মুলা ধরে দিয়ে একটি বৃহৎগোষ্ঠিকে ব্রেনড্রেন বা মেধা পাচারের সুযোগ করে দিলো। পিএইচডি, পোস্টডক করেও যারা বাংলাদেশে মূল্যায়ন পাওয়ার কোন সম্ভবনা দেখেন না, তারা কেন বাংলাদেশে ফেরবে? জ্ঞান তৈরির সুযোগ যেখানে থাকছে না, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় নামক শব্দটাকে অপমানিত করা হচ্ছে।

আপাত দৃষ্টিতে অভিন্ন শিক্ষক নিয়োগনীতি কেবল বর্তমান শিক্ষকদের জন্য, ভবিষ্যৎ ছেলে-মেয়েদের জন্য খড়গ। এমনিতে তলানিতে গিয়ে ঠেকছে শিক্ষার মান, সেখানে ইউজিসির এমন সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে কোন দিকে নিয়ে যাচ্ছে? এদের থামানোর জন্য কী কেউ নেই?


মন্তব্য