কূটনৈতিক দূর্বলতায় কি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসণ ব্যর্থ হচ্ছে বারবার?

রোহিঙ্গা শরনার্থী  © টিডিসি ফটো

বাংলাদেশ সরকারের এতো আন্তর্জাতিক লিংক লবিং এবং বিশ্বপরিমণ্ডলে গ্রহণযোগ্যতা (কথিত মতে) থাকা সত্বেও রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে না পারাটা সরকারের চরম ব্যর্থতা বলে আমি মনে করি! রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য সরকার বাহাদুরকে ৪ টি কাজ অবশ্যই করতে হবে...!

১. দেশের সকল দলমত নির্বিশেষে সব সংগঠন গুলোকে নিয়ে একটি জাতীয় কনভেনশনের আয়োজন করা এবং বিশ্ববাসীকে রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশে যে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরো বেশি হবে তা দেখানো এবং বুঝানো। এখনো সরকার যদি তাঁর ইগো নিয়ে বসে থাকে তাহলে দেশ আগামীতে রোহিঙ্গাদের নিয়ে চরম সংকটে পরবে।

২. মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফেরত না যেতে চাওয়াটাও কিন্তু অমূলক নয়, এই জায়গায় আমি বা আপনি থাকলেও যেতাম না বা যেতে চাইতাম না।

এখানে তাদেরকে যা দেখানো হয়েছে তা লোকভুলানো শুভঙ্করের ফাঁকির মতো। মিয়ানমার, চীন এবং জাপানের কূটনীতিকদের নিয়ে গঠিত পূনর্বাসন টিমটি বলছে যে, তাদের জন্য মিয়ানমারে থাকার সু ব্যবস্থা করা হয়েছে, তাদের সেখানে কোন সমস্যা হবে না ইত্যাদি ইত্যাদি।
আরে ভণ্ড বিশ্বসম্প্রদায়, তাদের সমস্যা তো থাকার জন্য (আবাসস্থল/ বাসস্থান) না। তাদের মূল সমস্যা হচ্ছে নাগরিকত্ব নিয়ে। মিয়ানমারের জান্তা সরকার অন্যায়ভাবে তাদের নাগরিক অধিকার ১৯৮২ সালে হরণ করে নিয়েছে।

এখন বিশ্বসম্প্রাদায়ের সবার আগে যে কাজটি করতে হবে, তা হলো মিয়ানমারকে চাপ দিতে হবে রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্যে। দ্বিতীয়ত তাদের অবাধ চলাফেরা এবং পূর্ণস্বাধীনতা দিতে হবে।

এই দুটি শর্ত পূরণ হলেই কেবল শান্তিপূর্ণভাবে দ্রুত তাদের নিজ বাসভূমে ফেরত পাঠানো সম্ভব। তাদের নাগরিক অধিকার এবং চলাফেরায় অবাধ স্বাধীনতা দিলে তাদের থাকার জন্য বাসস্থান কোন সমস্যা না, প্রয়োজনে তারা গাছতলায় থাকবে তাতেও তাদের শান্তি।

কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, এখানে বিশ্বসম্প্রদায় (লোক দেখানো কমিশন) লোকদেখানো পূনর্বাসনের নামে বাংলাদেশকে যে কলা দেখাচ্ছে তা বোধহয় আমাদের দেশের দক্ষ কূটনীতিক সম্প্রদায় এখনো বুজতে পারেন নাই।।

৩. বাঘের মতো কথা বলতে হবে বিড়ালের মতো মিউমিউ করে বললে হবে না, যেভাবে বলেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। মাহাথির সরাসরি রোহিঙ্গাদের জন্য আলাদা রাষ্ট্রের দাবি করেছেন ঠিক এমনভাবেই বাংলাদেশ সরকারকে বলতে হবে, হয় রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিয়ে ফেরত নিন আর না হয় তাদের জন্য রাখাইনকে আলাদা রাষ্ট্র ঘোষণা করুন। অন্যথায় আমরা যা যা করার তাই করবো। এই জন্য দরকার বাংলাদেশের সকল দলমত নির্বিশেষে জনগণের সাপোর্ট, তারজন্য জাতীয় ঐক্যমত্যের একটি কনভেনশন জরুরি।

৪. অথবা, বিকল্প পথে হাঁটা লাগলেও আমরা হাঁটতে বাধ্য হবো এই হুঙ্কারও দিতে হবে মিয়ানমারকে।।

যে কথা গুলো বললাম, সরকার বাহাদুর কতটুকু করতে পারবে সেটাই এখন জাতির প্রশ্ন। আজ পর্যন্ত তো দেখলাম না সরকারকে নিজেদের শক্তিমত্তা এবং সক্ষমতা দিয়ে কোনকিছু আদায় করতে, শুধু পারে ভারতের দালালী করতে।

আমাদের কথা একটাই, রোহিঙ্গাদের যথাযথভাবে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো লাগবেই। কোনভাবেই বাংলাদেশে তাদের বেশিদিন রাখা যাবে না। তাদেরকে নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চলতেছে।

রোহিঙ্গাদের দীর্ঘদিন বাংলাদেশে থাকতে দিলে তখন যদি বিশ্ব সম্প্রদায় বাংলাদেশকে চাপ দেশ রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য, তখন বাংলাদেশ কি করবে...?

আমার তো মনেহয়, আমাদের নতজানু সরকার বাধ্য হয়েই তখন নাগরিকত্ব দিয়ে দিতে পারে। আমার ভয়টা এখানেই, এমনি ছোট্ট একটি দেশ বিশাল এক জনগোষ্ঠী নিয়ে নানান সমস্যায় জর্জরিত আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি।আমরা আমাদের মাতৃভূমির এক ইঞ্চিও কেউ অবৈধভাবে দখল করুক বা ভোগদখল করুক তা আমাদের শরীরে এক ফোটা রক্ত থাকতে হতে দিবো না ইনশাআল্লাহ।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ