সেই শোক দিবসে ঢাবিতে শুধু রোকেয়া হলে মিলাদ হয়েছিল

সময়টা ১/১১। সময়ের চাকা ঘুরে ১৫ আগস্ট এলো। সে বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোথাও ১৫ আগস্ট পালন করতে দেওয়া হয় নি।কয়েকদিন আগে থেকেই মাথায় ঘুরছিলো যেভাবেই হোক একটা মিলাদ অনন্ত পড়াবোই। নাজমা শাহীন ম্যামকে আমার পরিকল্পনার কথা জানালাম। উনি বললেন প্রভোস্ট আপার ভাই (বগুড়ার লালু সাহেব) জেলে, আর্মিরা উনাকে খুব চাপে রেখেছেন উনি তোমাকে ১৫ আগস্টে কোন আয়োজন করতে দেবেন না।

তবে যাই ঘটুক না কেন আমি তোমার সাথে আছি।দরখাস্ত হাতে নিয়ে বেশ কয়েকবার প্রভোস্ট ম্যামের বাসা অফিস ঘুরলাম। উনি কোনভাবেই দেখা করলেন না। বাধ্য হয়েই ১৪ আগস্ট বিকেলে ফোন দিলাম প্রভোস্ট ম্যামকে। উনি বললেন পারমিশন দিতে পারবেন না। আমি বললাম আপনাকে পারমিশন দিতে হবে না শুধু আমিন দাদুকে বলে দেন আমাকে হল সংসদ খুলে মাইক দিতে। উনি বললেন উনি পারবেন না। আমি বললাম- আমি কি করতে পারি আপনি তো জানেন। আমি আপনার বাসা আর অফিসে তালা লাগিয়ে দেবো। হল সংসদের তালা ভেঙে মাইক বের করবো। মিলাদ আমি পড়াবোই। উনি বললেন- তুমি যা ইচ্ছে করো। নিজে বিপদে পড়বে আমাকেও জেল খাটাবে।

ঐদিন সন্ধ্যায় আবার নাজমা ম্যামের বাসায় গেলাম। উনি দেড় হাজার টাকা দিলেন। বললেন হুজুর ডাকো আর মিলাদের জিলাপির অর্ডার দাও। টাকা নিয়ে ক্যান্টিনে গেলাম ঊর্মি আর লিলিকে সাথে নিয়ে।দাদুদের সাথে কথা বললাম। আমিন দাদু হুজুর ঠিক করে দিলেন। ক্যান্টিনের সব দাদুরা মিলে বললেন - বাণী আপা মিলাদে আমরা ৫০০ জিলাপি দেবো। আর আমার বাকি মাস চলার টাকা দিয়ে ১৫ আগস্ট বাদ আসর রোকেয়া হলে মিলাদ পড়িয়েছিলাম।এতবড় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু রোকেয়া হলেই সেদিন বঙ্গবন্ধু কে নিয়ে দুটো কথা আর মিলাদ হয়েছিলো।

আজ নীলদলের কত নেতা।ঝাঁকে ঝাঁকে ছাত্রলীগের ত্যাগী। তখন কিন্তু কাউকেই দেখি নাই। হ্যাঁ, পরদিন সকালেই ডাক পড়েছিলো। তবে কলিজাটা তখন একটু বেশিই বড় ছিল।

*লেখকের ফেসবুক ওয়াল থেকে নেয়া। বর্ণিত ঘটনাকালে  ছাত্রলীগের নেত্রী ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এ প্রাক্তন শিক্ষার্থী। 

বাণী ইয়াসমিন হাসি
বাণী ইয়াসমিন হাসি

 


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ