তবুও ছেলেটি টিউশন পড়ায়

টিউশনির টিচার এর মত নিরীহ পেশা দুইটা নাই। এদেরকে অপমান করলেও সইতে হয়। কারণ যদি টিউশনিটা চলে যায়। কখনো স্টুডেন্ট এর বাবা মা, কখনো স্টুডেন্ট এর পরিবারের অন্য কারো যেকোন কথা মুখ বুজে সইতে হয়।

কুকুরের মত দৌড়ে হলেও সময়মত টিউশনিতে উপস্থিত থাকতে হয়। একটু দেরী হলেই স্টুডেন্ট এর প্রশ্নবাণ,"স্যার আজ এত দেরী হলো যে"। কখনো ৫ মিনিট দেরী হলেও কল দিয়ে জিজ্ঞাসা, "স্যার আজ আসবেন না"। এরা এমনিতে কল দিতে পারলেও স্টুডেন্ট যখন বাসায় থাকে না তখন কল দিতে পারে না।

দৌড়ে ঘামে ভিজে ছেলেটা যখন সময়মতো পৌঁছে তখন স্টুডেন্ট এর মায়ের "ও তো আজ বাড়িতে নেই, কাল এসো"। কথাটা একজন টিউটরের কাছে ভয়ংকর শুনায়। কখনো স্টুডেন্ট ঘুমাচ্ছে এখন ডাকা যাবে না বলে আধা ঘন্টার উপরে বসিয়ে রাখা হয়। তবুও ছেলেটা/মেয়েটা হাসিমুখে পড়িয়ে যায়। কারণ তার টাকার দরকার।

এর নাস্তা, কোন বাড়িতে সারাবছর বা বছরের পর বছর সেমাই, নুডলস খেয়ে টিউটর গুলোর এতটাই তিক্ততা আসে যে বলতেও পারে না। আবার কোন বাড়িতে টিউটরের খাবার প্লেটটাকে ডাস্টবিন বানানো হয়। সারা দিনের পরিবারের সবার না খাওয়া এঁটো জিনিসগুলো দিয়ে দেয়া হয়।

বাকি রইলো বেতন, বোনাস আর গিফট। গ্রামের দিকে বা কখনো শহরের দিকে কিছু কিছু টিউশনগুলোতে বেতনই ঠিক মত মিলে না আর সেখানে বোনাস/গিফটের চিন্তা করে স্বপ্ন দেখাও স্বপ্নদোষের মত। চিন্তা করলেই গোসল করে পবিত্র হতে হয়।

তবুও ছেলেটি টিউশন পড়ায়। হয়তো দুটো টাকার আশায়। এই টাকা দিয়ে পড়ার খরচ, মেসের খরচ কখনোবা পরিবারের খরচও জুটাতে হয়। প্রাইভেট টিউটর গুলো মানুষ না, একেকটা নক্ষত্র যাদের আলো হাত দিয়ে ঢেকে রাখা যায় না।

আপনার বাড়ির টিউটরটিকে সম্মান করুন।তার বেতন ঠিকমত দিন।খাওয়ার মত নাস্তা না দিতে পারলে অখাদ্যগুলো দিবেননা।সাধ্য থাকলে বোনাস দিন।কে বলতে পারে আপনার বাড়িতে পড়াতে আসা আজকে ছেলেটি/মেয়েটি হয়তো আগামীর রাষ্ট্রের কর্মকতা।

অন্য আমি এর ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে নেয়া।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ