বছরে মেডিকেল অনকোলজিস্ট তৈরি হচ্ছে মাত্র একজন

সংগৃহীত

ক্যান্সার চিকিৎসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ‘মেডিকেল অনকোলজি’। ইউরোপ, আমেরিকা, জাপান এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও ক্যান্সার চিকিৎসায় প্রধান ভূমিকা রাখছে মেডিকেল অনকোলজিস্টরা। যদিও বাংলাদেশে এ বিষয়ে এফসিপিএস করার সুযোগ নেই। এমডি করার সুযোগ থাকলেও বার্ষিক আসন মাত্র ৪টি। এক্ষেত্রেও রয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতা। দেশে ২০০৪ সালে প্রথম এই বিভাগটি খোলা হয়। এরপর মেডিকেল অনকোলজিস্ট বের হয়েছে মাত্র ১৬ জন। অর্থাৎ ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও বছরপ্রতি বিশেষজ্ঞ তৈরি হচ্ছে মাত্র একজন। যদিও যে হারে রোগী বাড়ছে, তাদের ন্যূনতম চিকিৎসা প্রদানের জন্য মেডিকেল অনকোলজিষ্ট প্রয়োজন কমপক্ষে ১০০ জন। 

জানা যায়, দেশের বড় মেডিকেল কলেজগুলোতে রেডিয়েশন অনকোলজি বিভাগ রয়েছে। কিন্তু মেশিন নষ্ট। এমনকি চিকিৎসকও নেই। সব রেডিয়েশন অনকোলজিস্টরা ঢাকায় বসে আছেন। ফলে প্রান্তিক মানুষরা বঞ্চিত হচ্ছেন চিকিৎসা থেকে। ক্যান্সার হাসপাতাল ও সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়া কোথাও মেডিকেল অনকোলজি বিভাগ নেই। স্নাতকোত্তর পর্যায়ে মেডিকেল অনকোলজির ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এমডি কোর্সে মাত্র ৪টি আসন রয়েছে। কিন্তু এফসিপিএস করার কোনো সুযোগ নেই। অন্যদিকে রেডিয়েশন, গাইনি ও পেডিয়াট্রিক অনকোলজির ক্ষেত্রে এফসিপিএস, এমডি ও এমএস করার সুযোগ রয়েছে। এফসিপিএসের ক্ষেত্রে আসনের কোনো সীমাবদ্ধতা নেই।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দেশে ক্যান্সার চিকিৎসা ও শিক্ষার পেছনে একটি দুষ্টচক্র কাজ করছে। যারা ক্যান্সার চিকিৎসার উৎকর্ষ সাধনে বাধা দিচ্ছে। এই চক্র নীতিনির্ধারক পর্যায়ে নিজেদের অযৌক্তিক মতামত চাপিয়ে দিয়ে ক্যান্সার চিকিৎসা ব্যবস্থা দুর্বল করে দিচ্ছে। এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ভারি যন্ত্রপাতি আমদানিকারকরাও। মূলত ক্যান্সার চিকিৎসায় ভারি যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয় রেডিয়েশন অনকোলজি বিভাগে। কিন্তু রেডিয়েশন অনকোলজিস্টদের ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস করার সুযোগ না থাকায় তারাই এই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। এমনকি প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার জন্য তারা ক্লিনিক্যাল অনকোলজিস্ট নামে একটি নতুন বিভাগ খোলার চেষ্টা করছে। আন্তর্জাতিকভাবে যার কোনো ভিত্তি নেই। তারা সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় করতে না পারায় অনেক ক্যান্সার রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে অকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে।

কিন্তু নিজেদের সুবিধার্থে মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরে আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে তারা মেডিকেল অনকোলজির কোর্স চালু করতে দিচ্ছে না। এই চক্র কোনো হাসপাতালে বিভাগ খুলতে দিচ্ছে না। এমডি কোর্সে যেন নতুন চিকিৎসকরা উচ্চ শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী না হয়, সেজন্য বিভিন্ন কৌশলও অবলম্বন করছে তারা।

জাতীয় ক্যান্সার ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে মেডিকেল অনকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং মেডিকেল অনকোলজি সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, গত তিন দশকে ভারতে মেডিকেল অনকোলজি বিভাগের উৎকর্ষে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। কিন্তু বাংলাদেশে এই বিভাগটি কোনোভাবেই বিকশিত হতে পারছে না। এই বিভাগ বিকশিত হলে কিছু চিকিৎসক প্রাইভেট রোগী দেখার সুযোগ পাবেন- এই ভেবে পদে পদে নানা প্রতিকূলতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। ২০৩০ সালে দেশে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ হবে। কিন্তু তাদের চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক পাওয়া যাবে না। তিনি বলেন, দেশের সব মেডিকেল কলেজে মেডিকেল অনকোলজি বিভাগ খোলার জন্য আবেদন করেছি। উচ্চশিক্ষায় আসন বাড়ানোর আবেদন করেছি। কিন্তু কোনো আবেদনই আলোর মুখ দেখছে না। এভাবে চলতে থাকলে দেশের সাধারণ মানুষের জন্য ক্যান্সার চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ