ছাত্রীর শ্লীলতাহানি

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে আন্দোলন স্থগিত

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানির ঘটনায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ১১ দফা দাবি মেনে নিয়েছে প্রশাসন। শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়ায় তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন। শনিবার বিকালে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক যৌথ সভায় বসেন।

তিন ঘণ্টার সভা শেষে কলেজের অধ্যক্ষ ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের যে ১১দফা দাবি ছিল সেগুলো নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে শিক্ষার্থীদের ১১ দফা দাবি মেনে নেয়ায় তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন।

এর আগে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের এম-৫৫ ব্যাচের এক নারী শিক্ষার্থী গত বুধবার ইফতার নিয়ে ক্যাম্পাসের ছাত্রী হোস্টেলে প্রবেশের সময় বহিরাগত এক বখাটে তাকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। এ সময় গেটে কোনো দারোয়ান ছিলেন না।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে বৃহস্পতিবার থেকে জড়িত ব্যক্তির গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে টানা বিক্ষোভ করেছেন কলেজ শিক্ষার্থীরা। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকালে ক্লাস বর্জন করে কলেজের একাডেমিক ভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ তৈরিতে কলেজ কর্তৃপক্ষের অবহেলা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। যৌন হয়রানির ঘটনায় জড়িতকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি, কলেজের ভেতরে সব বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।

বৈঠকে কলেজ অধ্যক্ষ ডা. আনোয়ার হোসেন, হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. লহ্মী নারায়ন মজুমদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আল আমিন, কলেজ শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি আতিকুর রহমান তুষারসহ শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, আন্দোলন প্রত্যাহার নয়, আপাতত স্থগিত করেছি। কথায় ও কাজে মিল না থাকলে প্রয়োজনে আবারও আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো।

শিক্ষার্থীদের ১১ দফাগুলো হলো-

১। গত ১৫/০৫/১৯ ইং তারিখে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জড়িত দোষী ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।

২। ছাত্রী হোস্টেলের গেইট সংস্কার এবং গার্ডদের রুম গেইটের বাহিরে করতে হবে এবং কলেজের মেইন গেইট সংস্কার সাথে ইনমাস এবং কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন আরেকটি নতুন গেইট নির্মাণ। অফিস টাইমের পর কলেজের মেইন গেইট এবং নতুন গেইট বন্ধ রাখতে হবে এবং সার্বক্ষণিক ইউনিফর্ম পরিহিত নিরাপত্তাকর্মী থাকতে হবে। ডেন্টাল ইউনিটের প্রধান গেইট অতিসত্তর সংস্কার করতে হবে।

৩। ছাত্র ও ছাত্রী হোস্টেলে বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত হোস্টেল সুপারদ্বয় শতভাগ ব্যর্থ হওয়ায় তাদের প্রত্যাহার পূর্বক অনতিবিলম্বে কার্যকর নতুন হোস্টেল সুপার নিয়োগ করতে হবে।

৪। ছাত্রী হোস্টেলের গেইট এবং কলেজের মেইন গেইট থেকে নতুন গেইট (ইনমাস) পর্যন্ত এবং ছাত্র হোস্টেলে সি.সি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে এবং সি.সি ক্যামেরা মনিটরিং করার জন্য আলাদা রুম থাকবে।

৫। ছাত্রী হোস্টেল এবং ছাত্র হোস্টেলের প্রাচীর কমপক্ষে ১০ (দশ) ফুট উচু করতে হবে সেই সাথে কাটা তার দিতে হবে।

৬। ছাত্র ও ছাত্রী হোস্টেলের সকল জায়গায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করতে হবে ও ছাত্রী হোস্টেলের অভ্যন্তরে নিমার্ণ কর্মীদের আবাসন সরাতে হবে।

৭। ছাত্রী হোস্টেলে, ছাত্র হোস্টেল এবং ক্যাম্পাসে দায়িত্বরত সকল কর্মচারীকে অবশ্যই তাদের সঠিক পোশাক পরিধান করতে হবে। সেই সাথে ছাত্রী হোস্টেলের পুরুষ কর্মীদের অবাধে চলাচল বন্ধ নিশ্চিত করতে হবে।

৮। বঙ্গবন্ধু উদ্যানে (ডিএনএ পার্ক) বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ শতভাগ বন্ধ করতে হবে। বঙ্গবন্ধু উদ্যান শুধু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের স্টাফদের জন্য, এটা নিশ্চিত করতে হবে।

৯। নিরাপত্তার জন্য একটি মনিটরিং কমিটি থাকবে (শিক্ষক+ ছাত্র প্রতিনিধি+ কর্মচারী প্রতিনিধি)। প্রতি মাসে এই কমিটি কলেজ প্রশাসনের নিকট রিপোর্ট পেশ করবে।

১০। ছাত্রী হোস্টেল গেইট, ছাত্র হোস্টেল গেইট এবং ইনমাস সংলগ্ন গেইটে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তাকর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। অফিস সময়ের পর কলেজের মেইন গেইট এবং ইনমাস সংলগ্ন গেইট দিয়ে প্রবেশ করতে হলে অবশ্যই আইডি কার্ড প্রদর্শন করতে হবে। হোস্টেলগুলোতে যদি কেউ তাদের বাবা মা বা অন্যদের ভিতরে নিয়ে যায় তবে নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে খাতা থাকবে, সেখানে লিপিবদ্ধ করে ঢুকতে হবে।

১১। ডেন্টাল ইউনিটের সামনে ও পিছনে দুটি ডাস্টবিন বিদ্যমান। ক্লাস করতে যাওয়া প্রতিটি শিক্ষার্থী এর দুর্ভোগের স্বীকার। সম্পূর্ণ হাসপাতালের কনস্ট্রাশন চলছে ডেন্টাল ইউনিটের সামনে। সারাদিন কনস্ট্রাকশনের কাজ হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও পড়াশুনা তীব্র দুর্ভোগের সম্মুখীন হচ্ছে। অনতিবিলম্বে এই ডাস্টবিন ও কনস্টাকশন কাজ কর্মের অপাসারণের জোর দাবী জানাচ্ছি।

 


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ