বউ পিটিয়ে জেলে গেলেন মাদ্রাসা শিক্ষক

  © সংগৃহীত

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতন, শ্বশুরকে আটকিয়ে জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে স্বামী চর জব্বর রব্বানিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষক জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) স্ত্রী শারমিন আক্তার স্বামী জসিম উদ্দিন, দেবর এমরান ও ননদকে আসামি করে চর জব্বার থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১১। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে চর জব্বার থানা পুলিশ অভিযুক্ত জসিম উদ্দিনকে গ্রেফতার করে আদালত পাঠায়। আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা চরবাটা ইউনিয়নের চরমজিদ গ্রামের মো. ছেরাজল হকের মেয়ে শারমিন আক্তারের সঙ্গে ফয়েজ আহাম্মদের পুত্র চর জব্বর রব্বানিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষক জসিম উদ্দিনের বিয়ে হয় প্রায় ৩ মাস আগে। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য শারমিনকে বেঁধে রেখে নির্যাতন করতন জসিম। এছাড়া যৌতুকের জন্য মেয়ের বাবা ছেরাজল হককে জিম্মি করে একটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন। মেয়ের বাবা তাকে টাকা দেওয়ার জন্য কিছু দিন সময় নেন। ওই সময়ের মধ্যে টাকা না পেয়ে আবারও শারমিনের ওপর নির্যাতন শুরু করেন। কখনও ঘরের মেঝেতে ফেলে কখনও ঘরের পিলারের সঙ্গে বেঁধে মারধর করতেন।

গত ৫ জুলাই আবারও একই কায়দায় মারধর শুরু করলে, শারমিন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। খবর পেয়ে বাবা ছেরাজল হক মেয়েকে উদ্ধার করতে গেলে তাকেও মেরে আহত করেন জসিম। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ঠ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসা শেষে গতকাল ২৩ জুলাই শারমিন আক্তার বাদী হয়ে স্বামী জসিম উদ্দিন, দেবর এমরান ও ননদকে আসামী করে চর জব্বার থানায় নারী নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, জসিম আগে আরেকটি বিয়ে করেন। বিয়ের পর কাবিননামা লুকিয়ে ফেলেন। ওই নারীকেও যৌতুকের জন্য বিভিন্ন সময় মারধর করতেন। নির্যাতন সইতে না পেরে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে ১ লাখ টাকায় বিনিময়ে তালাক দেন। কিন্তু এখনও ওই নারীকে প্রতিশ্রুত টাকা দেননি জসিম।

পরে প্রায় ৩ মাস আগে ছেরাজল হকের হাতে-পায়ে ধরে বিয়ে করেন তার মেয়ে শারমিন আক্তারকে। সুবর্ণচরে বিয়ে হলেও হাতিয়া উপজেলায় বিয়ের কাবিননামা করেন জসিম। বিয়ের কিছুদিন না যেতেই শারমিনের ওপর শুরু করেন নির্যাতন। পূর্বের কায়দায় শ্বশুর ছেরাজল হককে যৌতুক হিসেবে একটি মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন এবং ১ লাখ টাকার জন্য একটি অলিখিত স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন। টাকা দিতে না পারায় শুরু করেন শারমিনকে পেটানো।

চর জব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) ইব্রাহিম খলিল বলেন, শারমীন আক্তার স্বামী মাদ্রাসা শিক্ষক জসিম উদ্দিন, দেবর এমরান ও ননদকে আসাসি করে চর জব্বার থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ