নারী দিবসে বশেমুরবিপ্রবির তিন স্বর্ণকন্যার ভাবনা

একফ্রেমে তিনজন। বাঁ থেকে দিলারা, নিপা এবং আফরোজা  © টিডিসি ফটো

নারী জীবন মানেই হাজারো প্রতিবন্ধকতা। প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই সফলতার পথে পুরুষদের তুলনায় তাদের অনেক বেশি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়। নিজেদের অভিজ্ঞতার আলোকে নারী জীবনের এসকল চ্যালেঞ্জই দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের নিকট তুলে ধরেছেন গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০১৯ বিজয়ী তিন নারী শিক্ষার্থী। সেই সাথে জানিয়েছেন নারী দিবসকে ঘিরে তাদের প্রত্যাশাও—

দিলারা খাতুন, ইংরেজি বিভাগ 

নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০১৯ বিজয়ী এই ছাত্রী বলেন, একুশ শতকের যুগে এসেও মেয়েদের শিক্ষা গ্রহণের পিছনে লাভ-লোকসান হিসাব করা হয়, নেতিবাচক মন্তব্যের তীর ছুড়ে দেয়া হয়। আমার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। আমার পরিবার আর কয়েকজন উদার ও মহৎ শিক্ষকদের অনুপ্রেরণায় ঐ সকল বাঁধা অতিক্রম করে আমি এ পর্যন্ত পৌঁছেছি।

তিনি মনে করেন, নারীর জীবনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নারীর দুর্বল মনমানসিকতা ও পরাজয় মেনে নেয়ার প্রবণতা। তার মতে একজন নারী যদি হাজারো নেতিবাচক মন্তব্যের ভেতর থেকে নিজের মনকে ইতিবাচক বার্তা দিতে পারে আর প্রবল আত্মবিশ্বাস রাখে তবেই সে সকল বাধাকে অতিক্রম করতে পারবে। নারী দিবসে এই শিক্ষার্থীর প্রত্যাশা একুশ শতকের পুরুষতান্ত্রিকতার ভয়ানক জাল থেকে নারীরা নিজেদের বের করে আনবে এবং স্বাধীনতা আর আধুনিকতার নামে শোষিত না হয়ে নিজেদেরকে নতুন করে আবিষ্কার করবে।

নিপা সরকার, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ

তিন বোনের মধ্যে সবার ছোটো নিপা সরকার। তার বড় দুই বোনের খুব কম বয়সেই বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিল। এমনকি আশেপাশের অনেকে তার বাবা-মাকে পরামর্শ দিতো তাকেও (নিপা) যেনো দ্রুত বিয়ে দিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু পড়ালেখার প্রতি মেয়ের আগ্রহ এবং ভালো ফলাফল দেখে নিপা সরকারের বাবা-মা প্রতিবেশীদের পরামর্শ উপেক্ষা করে মেয়ের পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আর নিপা সরকারও স্বর্ণপদকজয়ের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন তার বাবা-মায়োর সিদ্ধান্ত ভুল ছিলনা।

সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্নকারী এই শিক্ষার্থী মনে করেন, একজন নারীর জীবনে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গী। সমাজে যতই নারী পুরুষের সমঅধিকার, নারী স্বাধীনতা বা নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলা হোক না কেনো এখনো নারীরা তাদের যোগ্য সম্মান পায়না। প্রায় প্রতিটি নারীকেই চলার পথে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বাজে মন্তব্য তথা ইভটিজিং এর শিকার হতে হয়। নিপা সরকারের মতে এসব ঘটনার ফলে মেয়েরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে, বিশেষ করে যেসব মেয়েরা পরিবার থেকে দূরে থাকে তাদের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে অনেক সমস্যার মুখোমুখি হয়।

নারী দিবসে স্বর্ণপদকজয়ী এই শিক্ষার্থীর প্রত্যশা, নারীর প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির যেনো পরিবর্তন ঘটে। সমাজ এবং রাষ্ট্র নারীর জন্য নিরাপদ হয়ে ওঠে।

আফরোজা খানম, একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগ

একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়ে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০১৯ এর জন্য নির্বাচিত হয়েছেন আফরোজা খানম। আফরোজা খানমের মতে ইচ্ছা এবং চেষ্টা থাকলে নারীর পক্ষে সকল বাঁধা অতিক্রম করা সম্ভব। তার মতে পরিবারের উচিত কন্যা সন্তানের প্রতি বিশ্বাস রাখা এবং উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ দেয়া আর মেয়েদের উচিত বাবা মায়ের বিশ্বাসের মূল্য রাখা এবং পড়ালেখায় মনোযোগী হয়ে ভালো ফলাফলের মাধ্যমে বাবা মায়ের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করা। নারী দিবসে এই শিক্ষার্থীর প্রত্যাশা নারীরা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হবে পাশাপাশি শালীন পোশাক-পরিধানের মাধ্যমে নিজেকে নিরাপদ রাখবে।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ