সহশিক্ষা কার্যক্রমকে আরও সমৃদ্ধ করতে চাই

নাজমূল হুদা সোহেল। তিনি লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর থানায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। ২০১৪ সালের ১২ মার্চ আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্রগ্রামে (আইআইইউসি) লেকচারার হিসাবে যোগদান করেন এবং গত ১ অক্টোবর শরীয়াহ অনুষদের সাইন্স অব হাদিস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্বপালন শুরু করেন। সম্প্রতি তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের প্রতিনিধি মো. আরিফুল ইসলাম

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: সাইন্সেস অব হাদিস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান হিসাবে মনোনীত হওয়ায় আপনাকে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
নাজমূল হুদা সোহেল: আপনাকে এবং দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের সাথে যুক্ত সকলকে ধন্যবাদ, একই সাথে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের অগ্রগতি ও সাফল্য কামনা করছি।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: আপনার শিক্ষাজীবন সম্পর্কে জানতে চাই?
নাজমূল হুদা সোহেল: আমি লক্ষ্মীপুর জেলার হায়দরগঞ্জ তাহেরীয়া আর এম কামিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল এবং আলিম পাশ করি। এরপর বাবার একান্ত ইচ্ছা অনুযায়ী চট্রগ্রামের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দা’ওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে ভর্তি হয়ে স্বর্ণপদক সহ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করি। এরপর স্কলারশিপ নিয়ে সৌদি আরবের কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এ্যারাবিক ল্যাঙ্গুয়েজ টিচিং এর উপরও একটি উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন করি। তারপর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থেকে ২০১৬ সালে এমফিল ডিগ্রী লাভ করি। আমার এমফিলের বিষয় ছিল “হিজাব ইন ইসলাম এন্ড ইটস ইমফেক্ট অন সোশ্যাল লাইফ”। এ বিষয়ে আমার একটি বাংলা বই প্রকাশের অপেক্ষায় আছে। বর্তমানে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডিতে গবেষণারত আছি।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: আপনার শিক্ষকতা জীবনের শুরুটা কিভাবে?
নাজমূল হুদা সোহেল: শিক্ষকতা ও গবেষণার প্রতি আমি বরাবরের মতো আগ্রহী ছিলাম। আমি সর্বপ্রথম ঢাকায় বাংলাদেশ ইসলামিক ‘ল’ রিসার্চ সেন্টারে গবেষণা কর্মকর্তা হিসাবে দেড় বছর কাজ করি। তারপর বাংলাদেশ ইনিস্টিটিউট অব ইসলামিক থ্যাট নামক গবেষণা প্রতিষ্ঠানে এ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর (রিসার্চ) পদে দু‘বছর কাজ করেছি। এরপর আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্রগ্রামের (আইআইইউসি) দা’ওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে ২০১৪ সালের ১২ মার্চ লেকচারার হিসাবে যোগদান করি। বর্তমানে সাইন্সেস অব হাদিস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করছি।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: তাহলে দা’ওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ থেকে সাইন্সেস অব হাদিস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান কিভাবে হলেন?
নাজমূল হুদা সোহেল: হুম, আসলে দু’টো বিভাগেরই মেজর হলো ইসলামিক স্টাডিজ। আমি যখন দা’ওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে লেকচারার হিসাবে যুক্ত হই। তখন সাইন্সেস অব হাদিস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ ছিল না। পরে যখন নতুন বিভাগের অনুমোদন হয়। তখন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাকে সেখানে স্থানান্তর করেন এবং পরবর্তীতে আমি এই বিভাগের চেয়ারম্যান হিসাবে গত ১ অক্টোবর থেকে দায়িত্ব পালন শুরু করি।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: জ্বী, আপনি সাইন্সেস অব হাদিস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান মনোনীত হওয়ায় আপনার অনূভূতি কি?
নাজমূল হুদা সোহেল: আলহামদুলিল্লাহ, আমি শিক্ষকতা জীবনটাকে উপভোগ করি এবং এই বিভাগের চেয়ারম্যান হিসাবে মনোনীত হয়ে উচ্ছ্বসিত। তবে দায়িত্বভার তো থাকেই, দো’য়া করবেন আল্লাহ যেন আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করার তাওফিক দান করেন।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: নতুন বিভাগকে কী অবস্থায় পেয়েছেন?
নাজমুল হুদা সোহেল: বিভাগে ছয়জন শিক্ষক ও একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ দেশি-বিদেশি প্রায় দুইশত শিক্ষার্থী রয়েছে। যারা বাংলাদেশে থেকেও সৌদি আরবসহ বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের সিলেবাসের আলোকে হাদিস শাস্ত্রে পাণ্ডিত্য ও উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে চায় তাদের জন্য সাইন্সেস অব হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ আদর্শ স্থান। এখানে রয়েছেন বিদেশী ডিগ্রীপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলী, রয়েছে হাদিস ক্লাব, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের নানাবিধ আয়োজন করা হয়ে থাকে। বিএ অনার্স শেষে আমাদের বহু ছাত্র ইতিমধ্যে স্কলারশিপ নিয়ে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের জন্যে গমন করেছে।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: আপনি বিভাগীয় প্রধান হয়ে কি কি নতুনত্ব নিয়ে আসতে চান?
নাজমুল হুদা সোহেল: আমি প্রথমত শিক্ষার্থীদেরকে তাদের একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি বিষয়ভিত্তিক কো-কারিকুলাম এ্যাক্টিভিটিজের সাথে স্পেশালি সম্পৃক্ত করতে চাই। শিক্ষার্থীদের লেখনী শক্তি বৃদ্ধির জন্য আমরা হাদিস স্টাডিজ নামক ম্যাগাজিন ইতিমধ্যেই বের করেছি, সেটাকে আমি আরো বেশি সমৃদ্ধ করতে চাই। সেই সাথে হাদিস ক্লাবের মাধ্যমে আরবী বক্তৃতা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সাধারণ জ্ঞানের আসর ও সুস্থ সংস্কৃতির চর্চার জন্য ইসলামী সংগীত, নাটিকা এবং শিক্ষামূলক সফরের আয়োজন করতে চাই। যাতে একজন ছাত্র তার মেধা বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: সর্বশেষ প্রশ্নে আপনার পরিবার সম্বন্ধে জানতে চাইবো, যদি বলতেন?
নাজমূল হুদা সোহেল: আমি বিবাহিত, আমার একটি পুত্র ও একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। আমার সহধর্মিণী ঢাকার মানারাত ইন্টার্ন্যাশনাল কলেজে শিক্ষকতা করতেন, পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে চাকরি ছেড়ে দিয়ে এখন তিনি আমার সাথে চট্রগ্রামে থাকেন। আমার পরিবারে সহধর্মিণী, দু’সন্তান ও মা রয়েছেন।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
নাজমূল হুদা সোহেল: আপনাকে ও দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে ধন্যবাদ।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ