করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কার করে ফেলেছে জাপান!

  © প্রতীকী ছবি

আজ মঙ্গলবার জাপানের ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অ্যানজেস ইনকর্পোরেট দাবি করেছে, তারা এবং তাদের ব্যবসায়িক পার্টনার ওসাকা ইউনিভার্সিটি যৌথভাবে করোনাভাইরাস থেকে বাঁচার ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেছে। স্বল্প সময়ের মধ্যে এটি প্রাণীর ওপর পরীক্ষা করা হবে।

গত সপ্তাহে চীনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগে থেকেই প্রস্তুত করে রাখা অন্য রোগের ওষুধ করোনা রোগীদের চিকিৎসায় ভালো ফল দিয়েছে। তবে ফুজি ফিল্মের তৈরি ওই ওষুধ ম্যালেরিয়া রোগের চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য তৈরি করা, কেবল করোনাভাইরাসের জন্য নয়।

এদিকে গত সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের কথা বলেছেন। ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকটিয়াস ডিজিস এবং যুক্তরাষ্ট্রের বায়োটেক প্রতিষ্ঠান মডের্না যৌথভাবে ওই ভ্যাকসিন আবিষ্কারের চেষ্টা করছে।

যদিও বিশেষজ্ঞদের দাবি, করোনার ভ্যাকসিন বাজারে আসতে আরো অন্তত এক থেকে দেড় বছর সময় লাগতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা রাজ্যে এক ব্যক্তি করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় নিজের থেকেই ক্লোরোকুইন ফসফেট খেয়ে মারা গেছেন। তার স্ত্রী ক্লোরোকুইন ফসফেট খেয়ে এখন মৃত্যুশয্যায়। জানা গেছে, রাসায়নিকটি ম্যালেরিয়া চিকিৎসায় স্বল্পমাত্রায় ব্যবহার করা হয়। তবে বাণিজ্যিকভাবে এটি ব্যবহার হয় মাছের ট্যাঙ্ক পরিষ্কারের জন্য।

কিছু গবেষণায় প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, ক্লোরোকুইন কার্যকর হতে পারে সার্স করোনাভাইরাস-২ এর ক্ষেত্রে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইলন মাস্ক এর আগে বলেছেন, করোনাভাইরাস ঠেকাতে ক্লোরোকুইন সহায়তা করবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাস থেকে বাঁচার জন্য মানুষজন নিজের মতো করে উপায় খুঁজে বের করার চেষ্টা করবে। তবে নিজের থেকে এ রোগের চিকিৎসা করার চেষ্টা করাটাই বোকামি। এমনকি ভুল সিদ্ধান্তের কারণে প্রাণও যেতে পারে।

বিশ্বজুড়ে চলছে করোনা তাণ্ডব। প্রতিদিনই লাফিয়ে বাড়ছে করোনায় মৃতের সংখ্যা। এরই মধ্যে গেল ২৪ ঘন্টায় যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় আক্রান্ত হয়ে নতুন ১৩১ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। প্রাণঘাতী করোনায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১১ হাজার মানুষ।

ধীরে ধীরে ভীতিকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতি। ইতালি ও যুক্তরাজ্যের পর যুক্তরাষ্ট্রও সেই ভয়াবহতার দিকে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একদিনে যুক্তরাষ্ট্রে ১৩১ জন মানুষ মারা গেছে যা সোমাবারে বিশ্বে চতুর্থ সর্বোচ্চ। একই সাথে নতুন করে ১১ হাজার মানুষের করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা সোমবারে পৃথিবীর সর্বোচ্চ যা ইতালির দ্বিগুণ।

আন্তজার্তিক গণমাধ্যম সিএনএন ও ওয়াল্ড ও মিটারের দেওয়া তথ্য মতে, করোনায় মৃতের সংখ্যার দিক দিয়ে পৃথিবীতে ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে শুধুমাত্র নিউ ইয়র্কে মৃতের সংখ্যা ১৫৭।

ওয়াল্ড ও মিটারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রোববার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩২ হাজার ৩৫৬ জন। মৃতের সংখ্যা ৪১৪ জন। ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে সোমবার মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৪৫ জন, আর করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৪৩ হাজার ৪৪৯।

 


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ