সাড়ে ৪ হাজার টাকায় হোটেলে কাজ করেন জিপিএ-৫ পাওয়া টুম্পা

জান্নাতুল ফেরদৌস টুম্পা

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার জান্নাতুল ফেরদৌস টুম্পা। সে ২০১৯ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে স্থানীয় একটি কলেজে ভর্তি হয়। কিন্তু পারিবারিক অস্বচ্ছলতা মেধাবী টুম্পাকে সাড়ে ৪ হাজার টাকায় হোটেলের কর্মচারী হিসেবে কাজ করতে বাধ্য করেছে। সংসারের হাল ধরতেই এ কাজ শুরু করেন। কিন্তু স্বপ্ন ছাড়েননি তিনি।

কাজের ফাঁকেই চালিয়ে যাচ্ছেন নিজের পড়ালেখা। এসএসসির পর অনেক স্বপ্ন নিয়ে কলেজে ভর্তি হয় টুম্পা। বাবার অসুস্থতা ও উপার্জনের একমাত্র ভ্যানগাড়িটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অথৈ সাগরে পড়ে তার পরিবার। তার উপর তাদের রয়েছে ঋণের কিস্তি। এ অবস্থায় থমকে যায় টুম্পার স্বপ্ন। উপায়ন্ত না দেখে নিজেই হাল ধরেন সংসারের।

টুম্পা জানিয়েছেন, যেকোনো মূল্যে সে তার লেখাপড়া চালিয়ে নিতে এ কাজ বেঁচে নিয়েছেন। তিনি সৎ পথে যেভাবে হোক উপার্জন করে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে চান। আর পাশাপাশি যদি তার পড়াশোনার বাইরে অতিরিক্ত টাকা থাকে তাহলে সে পরিবারকেও সহায়তা করতে চায়।

মেধাবী টুম্পার অদম্য মনোবল স্থানীয়দের কাছে এখন অনুপ্রেরণা। তার পাশের বাড়ির চাচি মা জানিয়েছেন, টুম্পা অনেক মেধাবী এবং উদ্যমী একটা মেয়ে। কিন্তু তার পড়ালেখার পেছনে আর্থিক সমস্য প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সে তার দারিদ্রতাকে জয় করে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে। দারিদ্রতা তাকে কখনো থামাতে পারেনি।

হোটেলে খাবার সরবরাহ করছেন টুম্পা

খাবার হোটেল মালিক জানান, মেয়েটা আমার এখানে কাজ করতে যেহেতু তার লেখাপড়ার আগ্রাহ ভালো তাই আমি তাকে ওই সুযোগটা ‍দিচ্ছি। এছাড়া মেয়েটার লেখাপড়ার ভাল। আমার হোটেলের একটু আর্থিক হলেও আমি তার আগ্রহের কথা বিবেচনা করে সুযোগ করে দিচ্ছি।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ