ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমাম হোসাইন নামে এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। সোমবার নিজ এলাকা বরিশালে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেন তিনি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসিম উদ্দীন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আব্দুর রশিদ বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। সে তার গ্রামের বাড়িতে আত্মহত্যা করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। তারপরও রিলায়েবল সোর্স থেকে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছি। এই বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়াতে আছি। সত্যি যদি এটি হয়ে থাকে, তাহলে একটি মর্মান্তিক এবং সাংঘাতিক বেদনাদায়ক। আমাদের মেধাবী ছাত্রদের এখন বেঁচে থাকার সময়। এটি সত্যিই অনেক দুঃখজনক।’
এদিকে আত্মহত্যার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছিলেন ঢাবির ওই ছাত্র। যা নিয়ে অনেকেই মন্তব্য করেছেন। ওই পোস্টে শুধু ‘আল-বিদা’ শব্দটি লিখেছিলেন ওই ছাত্র। যদিও ওই পোস্ট দেয়ার একদিন পর আত্মহত্যা করলেন তিনি। এর আগে দেয়া এক পোস্টে ইমাম লিখেছিলেন, ‘বিশ্ব-সংসার তন্ন-তন্ন করে খুঁজে এনেছি একশো আটটি নীলপদ্ম। তবুও কেউ কথা রাখেনি।’
ঢাবির ওই ছাত্রের ফেসবুকের কাভার ফটো ছিল ‘তোমাকে পাবো পাবো বলেই আত্মহত্যার তারিখটা পিছিয়ে দেই।’ আর প্রোফাইলে ছিল- ‘সিলিংয়ে ঝুলে গেলো সত্তা, নাম দিলে তার আত্মহত্যা।’
একাধিক কাছের বন্ধুর কাছ থেকে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ডিপ্রেশনে ছিলেন তিনি। কী কারণে ডিপ্রেশনে ছিলেন জানতে চাইলে তাদের বক্তব্য, প্রেমঘটিত সমস্যার কারণে সে আত্মহত্যা করেছে। এক শিক্ষার্থী জানান, মেয়ের বাবা তাকে একটু কটুকথা বলেছিলো; পাশাপাশি ওই মেয়েও আগের মতো তার সাথে সম্পর্ক রাখতে না । এসব কারণেই একপর্যায়ে তার মাঝে ডিপ্রেশন চলে আসে।
তারা আরো জানান, প্রতিদিনই তার কাছে কিছু স্থানীয় শিক্ষার্থী প্রাইভেট পড়তে আসত। তারই ধারাবাহিকতায় আজ ওই শিক্ষার্থীরা সকাল ৮ টার সময়ে আসলে ইমাম হোসাইন জানায়, তোমাদের তো অনেক দিন ধরে কোন ছুটি দিচ্ছি না। একটু রেস্ট নেওয়া দরকার। তোমরা আগামী দুই দিন প্রাইভেটে এসো না। একথা বলার পর তারা চলে যায় এবং বাসার সিলিং ফ্যানে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা করে ইমাম।
এদিকে ইমামের ওই পোস্টের নিচে তার বন্ধু-সহপাঠীদের অনেকেই কমেন্ট করেছেন। আদননা নামে এক ছাত্র লিখেছেন, ‘সে সুইসাইড করবে করবে বলে পোস্ট দিচ্ছিল ১-২ মাস ধরে, তখন কেউ তাকে সান্তনা কিংবা বুঝাতে পারেননি। এ থেকে প্রমাণিত তার কোন ভাল বন্ধু ছিল না। যদি থাকত এতদিনে তাকে ভাল ডাক্তারের শরনাপন্ন করত, সে মেন্টালি সিক ছিল। কেউ একজন সাইকাট্রিস্ট এর কাছে নিয়ে গেলে হয়তো...।’
এস এম আকবর বলছেন, গতকাল পোস্ট দিয়েছে, আর আজকে মারা গেলো!