ডিবি পরিচয়ে তুলে নেয়ার পর নিখোঁজ ঢাবি ছাত্র

ডিবি পরিচয়ে তুলে নেয়ার পর নিখোঁজ ঢাবি ছাত্র
নিখোঁজ ঢাবি ছাত্র রেদওয়ান ফরহাদ

গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিচয়ে তুলে নেয়ার পর নিখোঁজ রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থী। শুক্রবার ওই শিক্ষার্থীর গ্রামের বাড়ি কক্সবাজারের মহেশখালী থেকে তাকে তুলে নেয়া হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার তার বড় ভাইকেও স্থানীয় বাজার থেকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে দুজনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছেনা।

নিখোঁজ ওই শিক্ষার্থীর নাম রেদওয়ান ফরহাদ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী।

আজ শনিবার নিখোঁজ শিক্ষার্থী ফরহাদের মা মোমতাজ জানান, শুক্রবার সকাল দশটার দিকে কালারমার ছড়া ইউনিয়নের ইউনুশখালীতে তার ছেলে ঢাকা থেকে বাড়িতে পৌঁছেন। বিকেল চারটার দিকে ছোট অস্ত্র নিয়ে আট জনের একটি দল তাদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তার ছেলেকে নিয়ে যায়।

ফরহাদের পরিবারের সদস্যরা জানায়, আগের দিন বিকালে কয়েকজন ব্যক্তি ডিবি পরিচয়ে তার বড় ভাই রাশেদ খান মেননকে স্থানীয় বাজার থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে তিনিও নিখোঁজ।

পরিবারের সদস্যরা আরও জানায়, ডিবি পরিচয়ে ঢাবি শিক্ষার্থীকে ‘গ্রেপ্তারের’ কারণ ব্যাখ্যা না করে তার বাবা-মা’র মোবাইল ফোন এবং তার ল্যাপটপ জব্দ করেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পরিবারের সদস্যরা বলেছিলেন, তারা সাদা পোশাকে ছিলেন।

তার মা বলেন, ফরহাদকে ধরে নেয়ার পর তার বাবা-মা ‘ডিবি সদস্যদের’ অনুসরণ করেছেন এবং দেখেছিলেন ফরহাদকে একটি পুলিশ বক্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এরপর আমরা তার আর কোন হদিস জানি না।

পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে জানান, এ ঘটনায় তারা মহেশখালী থানায় নিখোঁজ অভিযোগ দায়ের করতে চেয়েছিলেন কিন্তু পুলিশ তা পায়নি।

মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিদারুল ফেরদৌস জানান, তিনি এ জাতীয় কোনও ঘটনার বিষয়ে অবগত নন এবং কেউই তাঁর কাছে কোনও অভিযোগ করেননি।

এদিকে, জেলা ডিবির ইনচার্জ শেখ আশরাফুজ্জামান জানান, তারা ওই এলাকা থেকে কাউকে গ্রেপ্তার করেনি।

নিখোঁজ শিক্ষার্থীর বোন দিলরুবা খানম বলেন, আমার ভাই কোন রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিল না।

এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ। সংগঠনিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন বলেন, আমরা উদ্বিগ্ন যে অতীতে অনেক লোক ডিবি বা সাদা পোশাকে তুলে নেয়ার পরে নিখোঁজ হয়ে যায়।


মন্তব্য