আমাদের কাছে নয়, পারলে ভাইয়ার কাছে ক্ষমা চান

ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতার জেরে ছাত্রলীগের হাতে নৃশংসভাবে খুন হওয়া বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবার ফাইয়াজ বড় ভাইয়ের শোকে এখনো কাতর হয়ে আছেন। গত বুধবার (৪ নভেম্বর) ভাই হারানোর এক আর্তনাদের ফেসবুক স্ট্যাটাস দেন আবরার ফাইয়াজ।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস পাঠকদের জন্য স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো।

চলুন একটু কল্পনা করি-মৃত্যুর আগে কী মনে হয়নি, আমি এখানে এত স্বপ্ন নিয়ে পড়তে আসলাম, সবার সাথে তর্ক করলাম বুয়েট বেস্ট, এখন এখান থেকে আমার লাশ যাচ্ছে! আজব অথচ, সেইদিন ভেবেছিলাম দেশের সবচেয়ে নিরাপদ ভার্সিটিতে আছি।

বাবা-মাকে তো লজ্জায় মুখও দেখাতে পারব না। সেইদিন যদি মেডিকেল বা ঢাবিতে ভর্তি হতাম,তাহলে তো অন্ধ বিশ্বাস করতাম না বন্ধুদের। বাসায় রুমমেটদের নিয়ে বললাম ওরা ২জন থাকতে আমার কিছু হবে না। বারবার নম্বর চাইলো ওদের ভরসায় নম্বর ও দিলাম না। সত্যি আমাকে তোরা চিরদিনের জন্য সবার থেকে দূর করে দিলি।

বুয়েটের অনেকেই আমাদের কাছে ক্ষমা চান আনুষ্ঠানিকতার জন্য কিন্তু বিশ্বাস করেন আমরা কোনোদিন আপনাদের উপর ভরসা করিনি। আমরা অনেক আগেই জানি এদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা। কিন্তু যে আপনাদের উপর ভরসা করেছিলো সবচেয়ে বড় মূল্য তাকেই দিতে হয়েছে। অবশ্য ভাইয়া আপনাদের হয়তো আগেই মাফ করে দিয়েছে। ছেলেটা সবচেয়ে বড় দূর্ভাগা সবাই বুয়েট থেকে বের হবে কিন্তু তার আর বের হওয়া হলো না। দুনিয়ায় বড় হতেই দেখে গেলো সবাইকে কিন্তু সব যোগ্যতা থাকলেও নিজে কিছুই করতে পারলো না।

অনেক কষ্ট করে প্রাইভেট পড়িয়ে নিজের টাকায় একটা ফোন কিনলো এক বছর আগে। আর সেইটাই কিনা মৃত্যুর কারণ হলো।।আমি ফোন কেনার সময় বার বার বললো তুই আমার টা নে আমি একটা নতুন কিনি। ভাইয়া আমাদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার কিছুই নাই,,,আর অন্যায় যার সাথে করছেন সে এখন অনেক দূরে। পারলে তার কাছে চাইয়েন। তবে ঠান্ডা মাথায় ভাবলে ক্ষমা করা কতটুকু যৌক্তিক সন্দেহ হয়।

প্রসঙ্গত গত ৫ অক্টোবর দিল্লিতে হায়দ্রারাবাদ হাউসে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে সাতটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এসব চুক্তির সমালোচনা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদ। পরদিন রাতে বুয়েট শেরে বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী।


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ