তরুণদের পুষ্টিসচেতন ও জীবনাচার পরিবর্তন করতে হবে

বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি কাউন্সিলের মহাপরিচালক মো. শাহ নেওয়াজ বলেন, খাদ্যের কথা এলেই পুষ্টির কথা আসবে। পুষ্টি তো আলাদা কোনো জিনিস না। তরুণেরা সকালে ঠিকমতো খেতে চায় না। অথচ সকালেই পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার খেতে হয়। পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের পাশাপাশি তরুণদের জীবনাচারেও পরিবর্তন আনতে হবে।

গতকাল বুধবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে ‘পুষ্টিসমৃদ্ধ বিশ্ব: তরুণ সমাজের সম্পৃক্ততা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সহযোগিতায় এই বৈঠকের আয়োজন করে প্রথম আলো। সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ফুড প্ল্যানিং অ্যান্ড মনিটরিং ইউনিটের মহাপরিচালক বদরুল আরেফিন বলেন, ‘পুষ্টি নিয়ে সরকারের অনেকগুলো চ্যালেঞ্জের মধ্যে প্রধান দুটি হলো শক্ত নীতিমালা, কর্মপরিকল্পনা ও বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা এবং রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ বাড়ানো। পুষ্টি নিরাপত্তায় কিছু কর্মসূচি চলছে, যাতে দেশীয় ও বিদেশি সংস্থার অংশীদারত্ব আছে। সেই অংশীদারত্বে যুক্ত হয়েছে তরুণদের পুষ্টি ক্লাব। একসঙ্গে কাজ করলে আমরা পুষ্টি খাতে আরও ভালো করব।’ নতুন একটি খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা নীতি তৈরির কাজ চলছে বলে জানান এই মহাপরিচালক।

খাদ্য ও কৃষি সংস্থার মচ প্রকল্পের প্রধান কারিগরি পরামর্শক নওকি মিনামিগচি বলেন, তরুণদের মধ্যে পুষ্টিবিষয়ক আরও সচেতনতা বাড়াতে হবে। এর জন্য দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আরও বেশিসংখ্যক পুষ্টি ক্লাব গঠন করা দরকার।

ম্যাপল লিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের পুষ্টি ক্লাবের সদস্য মাইশা আহসান বলেন, ‘আমরা তরুণেরা সকালে নাশতা খেতে চাই না। অথচ দিনের শুরুতেই সবচেয়ে বেশি এনার্জি সঞ্চয় হয় সকালের নাশতায়। পুষ্টি ক্লাবের মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থীদের পুষ্টিকর নাশতা বিষয়ে সচেতন করি। ছোট শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য পুষ্টিকর খাদ্যবিষয়ক রংবেরঙের খেলার মাধ্যমে সচেতন করে থাকি।’

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ক্লাবের সদস্য রুহুল আমিন বলেন, ‘আমাকে যদি এক গ্লাস দুধ আর এনার্জি ড্রিংকসের মধ্যে বেছে নিতে বলা হয়, আমি দুধটাই বেছে নেব। তবে বেশির ভাগ তরুণ তা করবে না। এটা তরুণেরা করে সচেতনতার অভাবে। আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হচ্ছি, কিন্তু পুষ্টি নিয়ে একটা ফাঁক থেকেই যাচ্ছে।’

খাদ্য ও কৃষি সংস্থার মচ প্রকল্পের জ্যেষ্ঠ পুষ্টিবিদ ললিতা ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় ৫ ভাগের ১ ভাগের বয়স ১৮–এর নিচে। পুষ্টিবিষয়ক বার্তাগুলো আরও আকর্ষণীয় করে উপস্থাপন করতে হবে।

খাদ্য ও কৃষি সংস্থার মচ প্রকল্পের সুশাসন নীতি পরামর্শক নাসের ফরিদ বলেন, ‘পুষ্টি নিয়ে তরুণেরা কী চায়, তা তরুণদেরই নির্ধারণ করতে হবে। তরুণেরা উদ্যোক্তা হতে চাইলে কি আমরা তাদের প্রণোদনা দিতে পারছি?’

পুষ্টিজ্ঞানকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব আইসিটি ইন ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শহীদ উদ্দিন আকবর বলেন, অনলাইন মাধ্যমে শিশু-কিশোর-তরুণদের মধ্যে পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে ই-পুষ্টি সিস্টেম প্রণয়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে একটি গেম ও অ্যানিমেশনও তৈরি করা হচ্ছে। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আরও পুষ্টি ক্লাব গড়ে তুলতে হবে। দেশের ৭ কোটি লোকের বয়স ৫ থেকে ২৪ বছর।

সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশের সূচনা প্রকল্পের প্রধান শেখ শাহেদ রহমান বলেন, জাতি গঠনে নারীর ভূমিকা অনেক বেশি। তাই তাদের দিকে নজরটা বেশি দিতে হবে। তবে পুষ্টি মানেই কি খাদ্য? মানুষের জীবনাচারও তো পুষ্টির একটি অংশ। তাই জীবনাচারও আলোচনায় আসতে হবে।

হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনালের ন্যাশনাল ইনফরমেশন প্ল্যাটফর্ম ফর নিউট্রিশনের কারিগরি পরিচালক জিল্লিয়ান এল ওয়াইদ বলেন, তরুণদের ফাস্ট ফুড বা জাঙ্ক ফুড খাওয়ার কুফল সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।

গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের পুষ্টি ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জেরিন তাসনিম বলেন, ‘পুষ্টি ক্লাব থেকে প্রতি মাসে আমাদের কলেজে প্রচারণা চালানো হয়। পুষ্টিকর খাবার সম্পর্কে বিভিন্ন খেলার মাধ্যমে ৩ থেকে ৪ বছর বয়সীদের আমরা সচেতন করেছি। এতে শিশুদের মাঝে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে।’


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ