মোবাইলের ক্ষতি সিগারেটের চেয়ে কোনো অংশেই কম নয়

অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত  © ফাইল ফটো

অনলাইন ক্লাসে মোবাইল বা স্মার্ট ডিভাইজের ক্ষতিকর দিক নিয়ে অনেকদিন ধরেই সোচ্চার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমইউ) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ‘মোবাইলের ক্ষতি সিগারেটের চেয়ে কোনো অংশেই কম নয়’।

অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত বলেন, প্রযুক্তির কল্যাণে আমাদের শিক্ষার্থী অনলাইনে ক্লাস করতে পারছে। কিন্তু এপিজে আবুল কালামের একটা কথা আছে, প্রযুক্তি হলো দুই দিকে ধারাল অস্ত্র। বামে গেলেও কাটবে, ডানে গেলেও কাটবে। সঠিক ব্যবহার যেমন মঙ্গলজনক, তার অপব্যবহার কিন্তু অসম্ভব ক্ষতিকারক। এই যে অনলাইন ক্লাসগুলো হচ্ছে তাতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকের আই টু আই সংযোগ হচ্ছে না।

তিনি বলেন, দ্বিতীয়ত শিক্ষার্থীর চোখ দেখলেই শিক্ষকরা বুঝতে পারে সে বিষয়টি বুঝেছে না বুঝতে পারছে না। এ ক্ষেত্রে সেটা বুঝা যায় না। তাছাড়াও ঘাড় সোজা করে বসে এই যে ক্লাসগুলো করছে এখানে একটি ইলেক্ট্রলাইটিক রেডিয়েশন আছে যে রেডিয়েশনটা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিক্ষারক। ছোট্ট পর্দায় এই যে মনোযোগ দিচ্ছে তাতে ঘাড়ে ব্যথা হচ্ছে, মাথাব্যথা হচ্ছে, চোখের দৃষ্টিশক্তি লোপ পাচ্ছে।

এদিকে দেশে দীর্ঘ চারমাসেরও বেশী সময় ধরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি অনলাইন ক্লাস শুরু করার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। ইউজিসির নির্দেশনা অনুযায়ী ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইন ক্লাসও শুরু করে দিয়েছে। অবশ্য এর আগ থেকেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের টেলিভিশন এবং রেডিওর মাধ্যমে পাঠদান চালিয়ে নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

অধ্যাপক প্রাণ গোপাল মনে করেন, কোনো অবস্থাতেই একটানা ৪০-৪৫ মিনিটের বেশি ডিভাইস ব্যবহার করা যাবে না। তার মতে, মোবাইলের অপব্যবহারে শিশুদের মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। শুধু শিশু নয়, সব বয়সি মানুষের টিউমার, স্মৃতি ও দৃষ্টিশক্তি লোপসহ নানা রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই মোবাইল ব্যবহারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

গবেষণা বলছে, দীর্ঘক্ষণ ইলেক্ট্রোনিক ডিভাইস ব্যবহার করলে নানা ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি দেখা দেয়। বিশেষ করে শিশুদের ওপর এর প্রভাব অত্যন্ত বেশি। শিশুরা মোবাইল হ্যান্ডসেট অনেকক্ষণ ব্যবহার করলে তাদের স্মৃতি ও দৃষ্টিশক্তি লোপ পায়। শরীরে টিউমার হতে পারে। রেডিয়েশনের প্রভাবে একটা শিশুর মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়ে থাকে।

বিএসএমইউ সাবেক এ উপাচার্য বলেন, ‘আমি তো মনে করি, এখন গবেষণার সময় এসেছে সিগারেট বেশি ক্ষতি করছে না মোবাইল ফোন বেশি ক্ষতি করছে। আমার মতে, মোবাইলের ক্ষতি সিগারেটের চেয়ে কোনো অংশেই কম নয়। ফলে ডিভাইস ব্যবহারে আমাদের অনেক বেশি যত্নবান হতে হবে।’


মন্তব্য