কলেজে ভর্তি না হয়ে গার্মেন্টসে চাকরি নিলেন আয়েশা

কলেজে ভর্তি না হয়ে গার্মেন্টসে চাকরি নিলেন আয়েশা
  © সংগৃহীত

অসচ্ছল পরিবারকে সাহায্য করতে পড়াশুনা বাদ দিয়ে গার্মেন্টেসে চাকরি নিলেন সদ্য এসএসসি পাশ করা আয়েশা আক্তার। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের রেকমত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগ থেকে তিনি এবার জিপিএ-৪.৬৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। করোনা মহামারির কারণে তছনছ হয়ে গেছে তাদের সংসার। সংসারের হাল ধরতে কলেজে ভর্তি না হয়ে গার্মেন্টসে চাকরি নিতে হয়েছে তাকে।

জানা যায়, টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় আয়েশার দাদাবাড়ি। সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পিএম একাডেমি মোড় এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন তারা। মা রওশন আরা আদমজী ইপিজেডের ইউনেসকো গার্মেন্টসে সাড়ে ছয় হাজার টাকা বেতনে ফিনিশিং অপারেটর হিসেবে চাকরি করতেন। বাবা মাসুদ রানা রডমিস্ত্রি। স্ত্রী ও দুই মেয়ে নিয়ে সুখের সংসার মাসুদ রানার। বড় মেয়ে আয়েশা এবার এসএসসি পাস করেছে। ছোট মেয়ে মরিয়ম আক্তার তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে।

২০১৮ সালে অসুস্থ হয়ে পড়ায় চাকরি ছেড়ে দেন আয়েশার মা। সেই থেকে তাদের পরিবারে বিপর্যয় নেমে আসতে শুরু করে। যার শেষ পরিণতি ডেকে আনে করোনাভাইরাস। এরমধ্যে সম্প্রতি তার বাবা নিখোঁজ রয়েছেন। গত ২৩ আগস্ট আয়েশার বাবা কাঁচপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়ে আর ঘরে ফেরেননি আয়েশঅর বাবা। সেই বিপর্যয় থেকে ঘুরে দাঁড়াতে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কলেজে ভর্তি না হয়ে সংসারের হাল ধরতে আয়েশাকে গার্মেন্টেসে চাকরি নিতে হলো।

এ বিষয়ে আয়েশা বলেন, স্বপ্ন ছিল এসএসসি পাস করে ভালো একটি কলেজে ভর্তি হবো। কিন্তু পরিবারের এ দূর্দশা অবস্থার কারণে বাধ্য হয়ে আমাকে গার্মেন্টেসে কাজ নিতে হয়েছে। তবে আমি লেখাপড়া চালিয়ে যেতে চাই।

তিনি আরও বলেন, লেখাপড়া শেষে ভালো একটা চাকরি করে আমার অসুস্থ মাকে সুস্থ করতে চাই। ছোট বোনকে মানুষের মতো মানুষ বানাতে চাই এবং আমার নিখোঁজ বাবাকে খুঁজে পেতে চাই।


মন্তব্য