শিক্ষা মন্ত্রণালয়কেও তোয়াক্কা করেন না যিনি!

মাধ্যমিক পর্যায়ের বিদ্যালয়গুলোতে অনিয়মের মাধ্যমে বিজ্ঞান শাখা খোলার অনুমতি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক মো: আবু হেনা মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে।

যদিও বিষয়টি অস্বীকার করেছেন তিনি। বলছেন, তিনি যেভাবে সংশ্লিষ্ট শাখা খোলার অনুমতি দিয়েছেন, অন্য বোর্ডগুলো এই ভাবেই বিজ্ঞান শাখা খোলার অনুমতি দেয়।

জানা গেছে, মাধ্যমিক পর্যায়ের কোন স্কুলে বিজ্ঞান শাখা চালু করতে হলে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষককে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বরাবর চিঠি দিতে হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সেই চিঠি পাঠানো হয় সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবোর্ডে। এরপর শিক্ষাবোর্ড থেকে বিদ্যালয় পরিদর্শক সরেজমিনে সেই বিদ্যালয় পরিদর্শন করে রিপোর্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠান। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যাচাই-বাছাই শেষে অনুমতি সাপেক্ষে বিদ্যালয় পরিদর্শক বিজ্ঞান বিভাগ চালু করার অনুমতি দিয়ে থাকেন।

কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এসব নিয়মের তোয়াক্কা না করেই দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শকসহ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মের মাধ্যমে বিভিন্ন স্কুলের মাধ্যমিক শাখায় বিজ্ঞান বিভাগ চালু করার অনুমতি দিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ থেকে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক আবু হেনা মোস্তফা কামাল চলতি বছরের ২২ জুন রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার কুমারপুর উচ্চবিদ্যালয় পরিদর্শনে যান। এরপর ২৩ জুন কুমারপুর উচ্চবিদ্যালয়ে বিজ্ঞান শাখা খোলার অনুমতি দেন। ওই পত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোন অনুমতি ছিল না।

দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আবু হেনা মোস্তফা কামাল দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম করে দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগ চালু করার অনুমতি দিয়ে আসছেন। এখন পর্যন্ত তিনি প্রায় ২০-২৫টি স্কুলের বিজ্ঞান শাখা খোলার অনুমতি নিজেই দিয়েছেন। যা শিক্ষামন্ত্রনালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের সম্পূর্ণ বিপরীত। তার বিরুদ্ধে এর আগেও অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু অজানা উপায় অবলম্বন করে সব ম্যানেজ করেছেন তিনি।

দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের সাবেক পরিদর্শক রবীন্দ্রনারায়ন ভট্টাচার্য দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০১৮ সালের ৪ ডিসেম্বর জারি করা প্রজ্ঞাপনে (স্মারক নং ৩৪০)  সুস্পষ্টভাবে বলা আছে একজন বিদ্যালয় পরিদর্শক নিজে কখনো বিজ্ঞান শাখা খোলার অনুমতি দিতে পারেন না। বিজ্ঞান শাখা চালু করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন থাকতে হবে। 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আবু হেনা মোস্তফা কামাল দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। অন্য শিক্ষাবোর্ডেও এভাবে বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান শাখা চালু করার অনুমতি দেয়া হয়। তাই আমিও দিয়েছি। টাকার মাধ্যমে অনুমোদন দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, একটি মহল আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা কে তাদের নাম বলুন। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করবো।

এই বিষয়ে দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবু বক্কর সিদ্দিক দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এই ধরনের একটি অভিযোগ আমার কাছে এর আগেও এসেছে। ভুল বসত দুই-একটি স্কুলের অনুমতি দেয়া হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। তবে তিনি দাবি করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় যখন একটি বিদ্যালয় খোলার অনুমতি দেয় তখন ওই বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান, মানবিক এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখা খোলার অনুমতি দেয়ার এখতিয়ার বোর্ডের থাকে।


মন্তব্য