‘পোস্টারম্যান’ খ্যাত দিলদারের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আজ ১৩ জুলাই দিলদারের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৩ সালের এই দিনে ৫৮ বছর বয়সে তিনি জীবনের মায়া কাটিয়ে চিরদিনের মতো পৃথিবী ত্যাগ করেন। দেখতে দেখতে কেটে গেল ১৪টি বছর। মুছে গেছেন তিনি সবখান থেকে। নতুন প্রজন্মের দর্শকও তাকে চেনেন না খুব একটা। তবে দিলদার থেকে গেছেন অসংখ চলচ্চিত্রে তার দুর্দান্ত অভিনয়ে; কৌতুক অভিনেতার কিংবদন্তি হয়ে।

তিনি ছিলেন ঢাকাই সিনেমার ব্র্যান্ড। যতো বড় নায়ক-নায়িকারই ছবি হোক না কেন পোস্টারে দিলদার ছিলেন অবধারিত। ইন্ডাস্ট্রির মানুষেরা তাকে সিনেমার ‘পোস্টারম্যান’ হিসেবেও সম্মান দেখাতেন।

সিনেমাতে তার উপস্থিতি মানেই বাড়তি বিনোদনের আহ্বান। গল্পে আর চরিত্রে তিনি দুঃখ ভুলানো মানুষ। ছবি দেখতে দেখতে কষ্ট-বেদনায় মন যখন আচ্ছন্ন হয়ে থাকতো তখনই তিনি হাজির হতেন হাসির সুবাস ছড়িয়ে।


বাস্তবতার দৈনন্দিন ঘানি টানা শেষে ক্লান্ত শরীরে সাধারণ দর্শক যখন তার অভিনয় দেখতেন, তখন তারা মুগ্ধ হতেন, প্রাণ খুলে হাসতেন, ভুলে যেতেন সারা দিনের সব কষ্ট। তার হাঁটা-চলা, বাচন ভঙ্গি, অভিনয়ের সাবলীলতার পরতে পরতে থাকতো আনন্দের ছড়াছড়ি।

শুধু তাই নয়, তার অভিনীত চলচ্চিত্রের কাহিনিতে কিংবা নায়ক-নায়িকার অভিনয় দক্ষতায় ঘাটতি থাকলেও দর্শক সেটি দেখতে এতটুকু বিরক্ত হননি। এমনকি অনেক চলচ্চিত্রের শেষ দৃশ্যে তার সংলাপ দিয়েই কাহিনির শেষ হওয়াটা স্বাভাবিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছিল এই ইন্ডাস্ট্রিতে।

তিনি দিলদার। একটা সময় ছিলো যখন, কেউ কাউকে হাসালেই তাকে ‘দিলদার’ উপাধি দেয়া হতো। বলা চলে প্রবাদে পরিণত হয়েছিলেন এই অভিনেতা। আশি-নব্বই দশকের চলচ্চিত্রে দিলদার আর কৌতুক হয়ে ওঠেছিলো সমার্থক।

১৯৪৫ সালের ১৩ জানুয়ারি চাঁদপুরে জন্মগ্রহণ করেন দিলদার। তিনি এসএসসি পাশ করার পর পড়াশোনার ইতি টানেন। ২০০৩ সালের ১৩ জুলাই যদি ৫৮ বছর বয়সে এ পৃথিবী ছেড়ে তিনি চলে না যেতেন, তাহলে হয়তো আজও উপহার দিতেন নতুন কোনো হাস্যরসাত্মক চলচ্চিত্র।

মৃত্যুর একই বছরে অভিনয় জীবনে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন এই জনপ্রিয় অভিনেতা।


মন্তব্য