সানিডেলে করোনার বন্ধেও মাসিক ফি দেরিতে দেয়ায় জরিমানা

লোগো

দেশের ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোর বিরুদ্ধে নামে-বেনামে অভিভাবকের পকেট কাটার অভিযোগ নতুন নয়। তবে এবার কভিড-১৯ ভাইরাসকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অচলাবস্থার মধ্যেই স্কুল ফি জমা দিতে দেরি হওয়ায় জরিমানা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে রাজধানীর ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সানিডেলের বিরুদ্ধে।

জানা যায়, সানিডেলে শিক্ষার্থীর পরিবারকে প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে বেতন জমা দিতে হয়। গত মাসে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউনের ঘোষণা থাকায় ফি জমা দেয়ার সময়সীমা দুই সপ্তাহ বাড়িয়ে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত নেয়া হয়। যদিও করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না ঘটায় ফের লকডাউনের সীমা বাড়ায় সরকার। সরকার ঘোষিত ছুটি ও লকডাউনের সীমা বাড়লেও স্কুল ফি জমা দেয়ার সময় বাড়ায়নি সানিডেল। উল্টো বড় অঙ্কের জরিমানা আরোপ করেছে অভিভাবকদের উপর।

বিশ্বব্যাপী চলমান মহামারী পরিস্থিতির মধ্যে সানিডেলের এমন আচরণকে অমানবিক বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক। তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে ফি জমা দিতে দেরি হওয়ায় কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অভিভাবকদের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করলে, সেটি অমানবিক কাজ হবে। কোনো অভিভাবক এ বিষয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ করলে, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে সানিডেলের ভুক্তভোগী এক অভিভাবক বলেন, এপ্রিলের ২৫ তারিখ পর্যন্ত লকডাউন থাকায় স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায় যে এপ্রিলের ৩০ তারিখের মধ্যে বেতন দিয়ে দিলে লেট ফি প্রযোজ্য হবে না। পরে লকডাউন আরো ১০ দিন বাড়ানো হয়। আমি ভেবেছিলাম নিশ্চয় তারা ঐ তারিখটাও সমন্বয় করবে। ডাচ বাংলা ব্যাংকের একাউন্ট থেকে অনলাইনে স্কুলের বেতন পরিশোধ করতে হয়। আর আমার চাকরির বেতন জমা হয় রাষ্ট্রায়ত্ত একটি ব্যাংকে। এজন্য আমার বেতনের অ্যাকাউন্ট থেকে থেকে ডাচ বাংলায় টাকা ট্রান্সফার করে তারপর সন্তানের স্কুলের বেতন দিতে হয়। লকডাউনের কারণে টাকা ট্রান্সফার করতে পারছিলাম না। তাছাড়া এই সময় ব্যাংকে যেতেও ভয় হচ্ছিল। কারণ অনেক ব্যাংকার আক্রান্ত হয়েছেন ব্যাংক থেকেই। আমি গতকাল (১ মে) স্কুলের অনলাইন ফি অ্যালোকেশন একাউন্টে লগ ইন করে দেখি প্রায় দুই হাজার টাকা ফাইন ধরা হয়েছে। ৩০শে এপ্রিল পর্যন্ত কোন ফাইন ধরার কথা না; তাহলে ১ দিনেই এই ফাইন ধরা হলো?

অভিভাবকদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে স্কুলের ওয়েবসাইটে দেয়া সেলফোন নম্বরে কল দিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ