‘লাইব্রেরিতে কাজ করলেও টাকা পাই না, পড়ার খরচ চালাতে রাজমিস্ত্রীর কাজ করছি’

  © ফাইল ফটো

‘লাইব্রেরিতে কাজ করে যে টাকা পেতাম, সেটুকুই ছিলো আমার পড়ালেখা চালানোর একমাত্র উপায়। কিন্তু গত ডিসেম্বর থেকে লাইব্রেরিতে নিয়মিত কাজ করলেও কোনো টাকা পাইনি। এই কয়েক মাস অন্যের কাছ থেকে টাকা ধার করে চলেছি; আর এখন সেই টাকা পরিশোধ করতেই রাজমিস্ত্রীর কাজ করছি।’

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস’র কাছে এভাবেই নিজের দূরাবস্থার কথা তুলে ধরলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে ফেব্রুয়ারি লাইব্রেরিতে পার্টটাইম ওয়ার্কার হিসেবে কাজ করতেন।

শুধু ওই শিক্ষার্থীই নন, একুশে ফেব্রুয়ারি লাইব্রেরিতে কর্মরত প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী এই সমস্যায় ভূগছেন। লাইব্রেরিতে নিয়মিত কাজ করলেও ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে এ সকল শিক্ষার্থীদের কোনো টাকা দেয়া হচ্ছে না, উপরন্তু ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে প্রায় ২৬ জনকে বকেয়া টাকা প্রদান না করে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

লাইব্রেরি এবং টিউশনি অর্থের ওপর নির্ভর করে চলা এ সকল শিক্ষার্থীরা করোনা পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে আরো বিপদগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার অনুরোধে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমার পড়ালেখার খরচ নিজেকেই বহন করতে হয়। লাইব্রেরি থেকে প্রাপ্ত অর্থে এবং টিউশনির টাকায় কোনোমতে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছিলাম, কিন্তু হঠাৎ লাইব্রেরি থেকে টাকা প্রদান করা বন্ধ করে দেয়। আর করোনার কারণে এখন টিউশনিটাও বন্ধ রয়েছে।’

ওই শিক্ষার্থী জানান, ‘করোনার কারণে পরিবারের আয়ও বন্ধ, সবমিলিয়ে আমরা বেশ দূরবস্থায় রয়েছি। লাইব্রেরি থেকে অর্থটা পেলে এই সময়ে আমরা পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারতাম।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলতি উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শাহজাহান বলেন, ‘সাবেক উপাচার্য কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ছাড়াই এ সকল শিক্ষার্থীদের লাইব্রেরিতে কাজ করার অনুমতি দেন। ফলে চলতি উপাচার্য হিসেবে বিষয়টি নিয়ে কিছুটা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তাদেরকে ছাত্র কল্যাণ ফান্ড থেকে হয়তো অর্থ প্রদান করা যেত; কিন্তু সাবেক উপাচার্য ছাত্র কল্যাণ ফান্ডের অর্থও ফিক্সড ডিপোজিট করে গেছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি এসকল শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির আওতায় নিয়ে আসতে।’ ২৬ জনকে চাকরিচ্যুত করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যারা একাধিক বৃত্তি পাচ্ছে, আমরা শুধু তাদেরকে এই তালিকা থেকে বাদ দিয়েছি।’

তবে উপাচার্যের কথার সাথে দ্বিমত পোষণ করে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘সিজেডএমের (সেন্ট্রাল ফর জাকাত ম্যানেজমেন্ট) বৃত্তি পাওয়ায় আমাকে লাইব্রেরির কাজ থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। অথচ ওই বৃত্তির টাকা প্রতিমাসে দেয়া হয় না। তাছাড়া এই বৃত্তির সময়সীমা সর্বোচ্চ দু’বছর; তাই বর্তমানে আমি শিক্ষাজীবন নিয়ে শঙ্কিত।’

উল্লেখ্য, বশেমুরবিপ্রবির সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিন প্রায় অর্ধ শতাধিক শিক্ষার্থীকে লাইব্রেরিতে কাজের বিনিময়ে প্রতিমাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করতেন।


মন্তব্য