‘করোনাভাইরাস আমাদের শেষ আশার আলোও নিভিয়ে দিয়েছে’

আলন্দোলন চলাকালীন ছবি। ইনসেটে শরীফুল ইসলাম সোহাগ
আলন্দোলন চলাকালীন ছবি। ইনসেটে শরীফুল ইসলাম সোহাগ  © টিডিসি ফটো

‘অনুমোদনের দাবিতে প্রায় দুমাস আন্দোলনের পর যখন কিছুটা আশার আলো দেখতে পাচ্ছিলাম, তখন করোনাভাইরাসের প্রকোপে আবারো আমাদের জীবনে অন্ধকার নেমে এসেছে। করোনাভাইরাস আমাদের শেষ আশার আলোটুকুও নিভিয়ে দিয়েছে’।

এভাবেই নিজেদের দূরবস্থার কথা দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস’র নিকট তুলে ধরছিলেন গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শরীফুল ইসলাম সোহাগ।

সম্প্রতি করোনাভাইরাসের কারণে বিভাগটির অনুমোদন সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে ইউজিসি কর্তৃক গঠিত কমিটির মিটিং স্থগিত করা হয়েছে। চলতি মাসের ২৪ তারিখে ইউজিসিতে সাত সদস্যের এই কমিটির মিটিং অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীসহ অনেকেই আশাবাদী ছিলো এই মিটিং থেকে কোনো একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান আসতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চলতি উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শাহজাহান মিটিং স্থগিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে মিটিংটি স্থগিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় মিটিং এর তারিখ নির্ধারণ করা হবে।’

এছাড়া, আন্দোলনরত এই শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন। এসময় তিনি বলেন, ‘গত ৬ ফেব্রুয়ারী থেকে আমরা ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন করছি। বাড়ি আসার পর প্রতিনিয়ত বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যরা প্রতিদিন জানতে চায় নতুন কোনো সংবাদ আছে কিনা, আমরা আদৌ অনুমোদন পাবো কিনা। তাদের প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে পারি না। দিনদিন মানসিক চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

উল্লেখ্য,বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদন ছাড়াই ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেন বশেমুরবিপ্রবির সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিন।

পরবর্তীতে চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি বিভাগটিতে আর কোনো নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি না করানোর নির্দেশনা প্রদান করে ইউজিসি। ইউজিসির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ৬ ফেব্রুয়ারী রাত থেকেই প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন শুরু করেন বিভাগটির শিক্ষার্থীরা।


সর্বশেষ সংবাদ