বুয়েট ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে দর-কষাকষি

আগামী ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রথম বর্ষের অনুষ্ঠিতব্য ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষক ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে দর কষাকষি চলছে। ১৪ অক্টোবর যথাসময়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়া পক্ষে রয়েছেন শিক্ষকরা। অপরদিকে ওইদিন পরীক্ষা স্থগিত করে পেছানোর দাবি তুলছে আবরার হত্যায় ১০ দফা দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

আজ শুক্রবার বুয়েট অডিটোরিয়ামে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা কালে বুয়েটের উপাচার্য শিক্ষার্থীদের ১০ দফার জবাব দেন। তিনি বলেন, বুয়েটে সাংগঠনিক ছাত্র রাজনীতি থাকবে না। আবরারের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে এবং মামলার খরচ বুয়েট কর্তৃপক্ষ বহন করবে। বিচারকাজ দ্রুত শেষ করতে সরকারকে চিঠি দেওয়া হবে। বুয়েটে র‌্যাগিং বন্ধ হবে।

উপাচার্যের আশ্বাস শেষে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমরা আশ্বাস এবং মন ভুলানো কথা চাই না। আমরা একই দাবি বারবার জানিয়ে আসছে এবং আপনারাও একই কথা বলে আসছি। কিন্তু এই সাইকেল আর কতদূর চালাতে হবে। আমরা দাবির বাস্তবায়ন এবং দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখতে চাই।

অডিটোরিয়াম থেকে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের প্রতিনিধি জানাচ্ছেন, এখন ১৪ অক্টোবরের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে অডিটোরিয়ামে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর পক্ষে-বিপক্ষে তর্কে লিপ্ত হয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এখনো তারা সিদ্ধান্তে পৌছাতের পারেননি।

উপাচার্য আলোচনা সভা থেকে ওঠে যাওয়ার আগে বলেন, 'আমি দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে ওঠছি। শেষবারের মতো অনুরোধ করছি, আমাদের সম্মান ধুলায় লুটাতে দিও না। ভর্তি পরীক্ষা হতে দাও। অফিসগুলো খুলে দাও।

কিন্তু শিক্ষার্থীরা কোনো উপাচার্যের আহ্বানে সাড়া দেননি। তাদের দাবি, ১০ দফা দাবি বাস্তবায়ন হলে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম চলবে। এর আগ পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়াও ঘোষণা দেয় তারা।

সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ অক্টোবর বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করার কথা থাকলেও দুর্গাপূজার কারণে তারিখ পিছিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বুয়েট প্রশাসন। পরে তা ১৪ অক্টোবর আয়োজনের ঘোষণা দেয়া হয়। ইতোমধ্যে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে প্রশাসন।

গত ৭ অক্টোবর আবরার ফাহাদকে হলের মধ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনার জের ধরে লাগাতার আন্দোলনে যুক্ত হন তারা। ১০ দফা দাবি নিয়ে তারা গত পাঁচদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। 

গত কয়েকদিন সরেজমিনে দেখা গেছে, আবরার হত্যার বিচারের দাবিতে শুরু হওয়া এ আন্দোলনের কারণে অস্থির অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, প্রতিবাদী স্লোগানে কম্পিত হয়ে উঠেছে বুয়েট ক্যাম্পাস। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন তারা। তাদের আন্দোলনে বুয়েটের শিক্ষক ও সাবেক শিক্ষার্থীরা সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। এতে করে এ আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠেছে।

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সকল পরীক্ষাক্লাস বর্জন করারও ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। শুধু তাই নয়, আগামী ১৪ অক্টোবর বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত রাখারও দাবি জানিয়েছেন আসছেন তারা। 


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ