স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচন চলছে

  © টিডিসি ফটো

মাধ্যমিকের কিশোর-কিশোরী শিক্ষার্থীদের মন্ত্রিসভা (স্টুডেন্ট কেবিনেট) নির্বাচন শুরু হয়েছে। শনিবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় শুরু হওয়া এ ভোটগ্রহণ চলবে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে। বিকেলে বিজয়ীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে।

নির্বাচন উপলক্ষে সকাল ৭টা থেকে স্কুল ড্রেস পড়ে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করে।

ঢাকার মতিঝিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মাঠে লাইনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে একে একে ক্লাস রুমে গিয়ে সেখানে বসানো ভোট বক্সে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে বেরিয়ে আসছে শিক্ষার্থীরা। এছাড়া বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ জুড়ে সাদাকালো ও রঙিন কাগজে হাতে লেখা পোস্টার ঝোলানো হয়েছে। সেসব পোস্টারে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এসব পোস্টারে প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী নানা ইশতেহার তুলে ধরেছে।

এ বছর দেশের আট বিভাগ ও আট মহানগরের মোট ৫৫৯টি উপজেলা/থানার ২২ হাজার ৯২৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ১৬ হাজার ৩৮৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ছয় হাজার ৫৪২টি দাখিল মাদ্রাসা রয়েছে।

এর আগে ২০১৯ সালে ২২ হাজার ৯৬১টি প্রতিষ্ঠানের এক লাখ ৮৩ হাজার ৬৮৮টি পদের বিপরীতে তিন লাখ ২৪ হাজার ৮৩৭ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিল। ২০১৯ সালে মোট ভোটার ছিল এক কোটি ১৪ লাখ ৯৫ হাজার ৬১৮ জন। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিতরা একজন প্রধানমন্ত্রী ও কয়েকজন মন্ত্রী নির্বাচন করে মন্ত্রিসভা গঠন করে। এ মন্ত্রিসভা এক বছর মেয়াদে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করে।

ভোট কক্ষে জাতীয় পর্যায়ের ভোটের মতোই পোলিং অফিসার, প্রার্থীদের এজেন্টরা উপস্থিত রয়েছে। তারা নানাভাবে ভোটারদের সহায়তা করছে। সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করছে। শিক্ষার্থীদের এ নির্বাচন কার্যক্রম পরিদর্শন করতে সকালে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি মতিঝিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে আসেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র ঘুরে দেখেন।

দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয় (৬ষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি) ও দাখিল মাদরাসায় এ স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচন আয়োজন করা হয়েছে। তবে অন্য কোনো পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেমন- নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ এবং আলিম, ফাজিল ও কামিল মাদরাসা এ নির্বাচনের আওতায় বিবেচিত হবে না।

তফসিল অনুযায়ী, ১৪ জানুয়ারি থেকে স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচনের মনোনয়নপত্র আহ্বান করা হয়। ১৬ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র জমা নেয়ার শেষ দিন ছিল। যাচাই বাছাই শেষে ১৮ জানুয়ারি বৈধ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়। ১৯ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার শেষে প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণতন্ত্র চর্চা তৈরি করতে ‘স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচন’র আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণতন্ত্র চর্চাসহ একে অপরকে সহযোগিতা করা, শ্রদ্ধা প্রদর্শন, শতভাগ শিক্ষার্থী ভর্তি ও ঝরে পড়া রোধে সহযোগিতা, পরিবেশ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ নিশ্চিতসহ ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। ২০১৬, ২০১৭, ২০১৮, ২০১৯ সালে দেশে সব মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও দাখিল মাদরাসায় স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, এ বছর দেশের ৮টি বিভাগ ও ৮টি মহানগরের আওতাধীন ৫৫৯টি উপজেলা/থানায় মোট ২২ হাজার ৯২৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তার মধ্যে ১৬ হাজার ৩৮৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৬ হাজার ৫৪২টি দাখিল মাদরাসা রয়েছে।

এবার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১ লাখ ৩১ হাজার ৭২টি ও মাদরাসায় ৫২ হাজার ৩৩৬টি পদে প্রার্থীরা অংশগ্রহণ করছে। নির্বাচনে মোট ১ কোটি ১৫ লাখ ৫৩ হাজার ৯১৬ জন ভোটার রয়েছে। তাদের মধ্যে ৬২ লাখ ৫১ হাজার ৬৮৩ জন ছাত্রী (৫৪ দশমিক ১০ শতাংশ) রয়েছে।


সর্বশেষ সংবাদ