এমপিওভুক্তিতে পছন্দের তালিকা দিতে চান সাংসদরা

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ততে নিজেদের পছন্দের তালিকা দিতে চান সংসদ সদস্যরা। এমপিওভুক্তর জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তৈরি করা তালিকা ছাড়াও নিজেদের এলাকার পছন্দের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি করার দাবি জানান তারা। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সাংসদদের দাবির মুখে সর্বোচ্চ সংখ্যক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

মঙ্গলবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হয় সংসদ অধিবেশন। এর প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষামন্ত্রীকে এমপিওভুক্তি নিয়ে প্রশ্ন করেন সংসদ সদস্যরা।

এসময় আওয়ামী লীগের গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স বলেন, ‘শুধু অনলাইনে তালিকা তৈরি করে এমপিওভুক্ত করলে চলবে না। কারণ আমরা অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি। যে সকল প্রতিষ্ঠান শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা রাখছে। অনেক দুর্গম এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শর্ত পূরণ করতে পারেনি। তাই এমপিদের কাছ থেকে নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে হবে।’ তার ওই বক্তব্যকে টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানান সরকার ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা।

সাংসদদের দাবির মুখে সরকারের অবস্থানের কথা তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশ অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক এগিয়েছে। আর্থিক সামর্থ্য আগের তুলনায় অনেক বেশি। এ কারণে এবার অনেক বেশি সংখ্যক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আমরা এমপিওভুক্ত করতে পারবো। প্রত্যেক সংসদ সদস্যের এলাকার মধ্যে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভালো পারফর্ম করছে সেগুলো অবশ্যই এমপিওভুক্তি হবে।

তিনি বলেন, আমরা অতীতে দেখেছি কোনো মানকে, যোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। দলীয় বিবেচনাকে কিভাবে অপব্যবহার করে যোগ্যতাকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে। ন্যাক্কারজনক ভাবে দলীয়করণ করা হয়েছে। সকল ক্ষেত্রে দলীয়করণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শেখ হাসিনার সরকার জনগনের অধিকারের বিষয়ে সচেতন। আমরা যোগ্যাতাকেই গুরুত্ব দিচ্ছি, যোগ্যতাকেই মাপকাঠী হিসেবে ধরছি। এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে যে নীতিমালা আছে, তার বাইরে গিয়ে কিছু করার সুযোগ নেই। নীতিমালার মধ্য থেকে আমরা সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করতে পারবো বলে আশা করছি। তবে দূর্গম অঞ্চল, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধীদের শিক্ষা ও নারী শিক্ষাসহ কিছু বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া অন্য কোন ক্ষেত্রে শৈথিল্য দেখানোর সুযোগ এমপিও নীতিমালায় নেই।


মন্তব্য