ইন্টারনেট ব্যবহারকারী প্রতি ৩ জনের ১ জন শিশু, বাড়ছে বিপদ

ইন্টারনেট ব্যবহারকারী প্রতি ৩ জনের ১ জন শিশু, বাড়ছে বিপদ
  © সংগৃহীত

করোনার কারণে সবার জীবনের চেনা ছন্দটা বদলে গেছে। ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এ অফিসের কাজ সামলে ঘরের অনেক কাজ করতে হচ্ছে। সেগুলো সম্পর্কে লকডাউনের আগে তেমন কোনও ধারণাও হয়তো ছিল না। ফলে বেশির ভাগ বাবা-মায়ের সন্তানকে দেয়ার মতো সময় কমে গেছে।

একান্নবর্তী পরিবারের সংখ্যাও ‘হাতেগোনা’। ফলে শিশুকে সময় দেয়ার কেউ নেই। বাইরে বেরিয়ে শিশুদের খেলাধুলোর সুযোগও তেমন নেই। ফলে বদ্ধ ঘরে স্মার্টফোন, টিভি, কম্পিউটারে কাটছে শিশুর শৈশব। বাবা-মায়ের ব্যস্ততায় এগুলোর সঙ্গে সময় কাটাতেই তারা অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। আর এটিই তাদের ভবিষ্যতের জন্য বিপদ ডেকে আনছে!

ইউনিসেফ সমীক্ষা করে জানিয়েছে, বিশ্বে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী প্রতি তিন জনের মধ্যে একজন শিশু। প্রতি হাফ সেকেন্ডে একজন শিশু ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। এছাড়া ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ২৫ শতাংশেরই বয়স ১০ বছরের নিচে। এই স্মার্টফোন থেকে নির্গত রেডিয়েশন তাদের মস্তিষ্ক, কানসহ বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি করছে।

এটি শিশুর স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার সময়ে আরো বেশি ক্ষতিকর। মস্তিষ্ক ও কানে নন-ম্যালিগন্যান্ট টিউমার হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। বেশি সময় শিশু টিভি, স্মার্টফোন বা কম্পিউটারে কাটালে তাদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাদের পরিপূর্ণ বিকাশে খেলার মাঠই উপযুক্ত।

শিশুদের যতো বেশি শারীরিক ক্রিয়াকলাপে, খেলাধুলোয় নিযুক্ত করা যায়, তত ভালো। এই সময়েই থাবা বসাচ্ছে স্মার্টফোন। ফোনের প্রতি আসক্ত শিশুকে ফোন না দিলে বিরক্ত হতে দেখা যায়। কথোপকথনেও অল্পেই ধৈর্য হারিয়ে ফেলে তারা। এমনকি শিশুর স্বাভাবিক ঘুমেরও ব্যাঘাত ঘটায়।

এছাড়া যারা সেলফি তোলে, তাদের অনেকের আত্মকেন্দ্রিকতার লক্ষণ দেখা দেয় বলে মত মনস্তত্ত্ববিদদের। এজন্য অবসর কাটাতে সন্তানের হাতে গল্পের বই, ধাঁধা সামগ্রী তুলে দেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি তাদেরকে সঙ্গ দেয়ার জন্য বড়দেরও এগিয়ে আসতে হবে। এছাড়া শরীর চর্চার ছলে সন্তানকে যোগাভ্যাস করার পরামর্শও দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

তাদের নির্দেশিকা অনুযায়ী, শিশুরা টিভি, মোবাইল বা কম্পিউটারে সময় যত কম কাটাবে, তত ভালো। তারা দিনে বড়জোড় এক ঘন্টা টিভি বা কম্পিউটারে সময় কাটাতে পারে। এর বেশি হলেই বিপদ!


মন্তব্য