অসহায়দের খাবার জোগাড়ে মোটরসাইকেল বিক্রির চেষ্টা ডাকসু নেতার!

করোনা সংকটের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শ্রমজীবী এবং ছিন্নমূল মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন ডাকসু সদস্য তানভীর হাসান সৈকত। গত প্রায় দুইমাস ধরে অসহায় মানুষের মুখে খাবার তুলে দেয়ার ব্রতটি পালন করছে সুচারুরূপে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার মানুষের খাবার বন্দোবস্ত করছেন তিনি। বন্ধু-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহায়তা নিয়ে এই বিরাট কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করছে তার দল।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে গিয়ে দেখা যায়, রাজু ভাস্কর্যের সামনের রাস্তায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সুশৃঙ্খলভাবে বসে আছেন পাঁচ শতাধিক মানুষ। সৈকত তার সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রত্যেকের কাছে গিয়ে ইফতারি হিসেবে হাতে তুলে দিচ্ছিলেন রান্না করা খাবারের প্যাকেট। দুই মাস ধরে এভাবেই অনাহারী মানুষের খাবারের জোগান দিচ্ছেন সৈকত। যারা খাবার নিতে আসেন, তাদের বেশিরভাগের সঙ্গেই দেখা গেল সৈকতের হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক। খাবার বিতরণের ফাঁকে ফাঁকে সবার খোঁজখবরও নিচ্ছিলেন তিনি।

খাবার নিতে আসা কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, করোনার প্রাদুর্ভাব শুরুর পর নিয়মিত আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েন তারা। সেই দুঃসময়ে তাদের দুই বেলা খাবারের বন্দোবস্ত করেন সৈকত। রান্না করা খাবারের পাশাপাশি ত্রাণ হিসেবে তাদের মাঝে নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা পণ্যও বিতরণ করেছেন তিনি। রমজান মাস শুরু হওয়ার পর মুসলিমদের জন্য আয়োজন করা হচ্ছে ইফতার ও সেহরির। অন্য ধর্মাবলম্বীদের দেওয়া হচ্ছে দুপুরের খাবারও।

সৈকত জানান, করোনা মহামারির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক নিম্ন আয়ের মানুষ যেন খাবারের সংকটে না ভোগে সেজন্যই তিনি এই পদক্ষেপ নেন। গত ২৩ মার্চ থেকে খাবার বিতরণ শুরু করেন তিনি। প্রাথমিকভাবে ৫০ জনকে সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। পরে অন্য অনেকের সহায়তায় আরও বেশি মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেন। বর্তমানে প্রতিদিন ইফতারে খাবার দিচ্ছেন ৮০০ থেকে এক হাজার মানুষের মাঝে। সেহরির ব্যবস্থা হয় প্রায় ৬০০ মানুষের জন্য। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষার্থী এই পরিস্থিতিতে সমস্যায় রয়েছেন, তাদের জন্যও যথাসাধ্য সহায়তার চেষ্টা করছেন সৈকত।

আরও জানা যায়, তার এইকাজে এগিয়ে এসেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও। এছাড়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ূয়া, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগসহ অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। প্রায় দশ দিনের খাদ্যসামগ্রী দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) মতো প্রতিষ্ঠানও।

তবে সৈকত জানালেন, আপাতত তার কাছে আরও এক সপ্তাহের খাবার বিতরণের রসদ মজুদ রয়েছে। এরপরের খরচ জোগাতে আপাতত নিজের প্রিয় মোটরসাইকেলটি বিক্রি করার চেষ্টা করছেন। সমাজের বিত্তশালীদের প্রতিও সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। কেউ এগিয়ে আসতে চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন ০১৬৮৪০২৩৪১১ নম্বরে।

ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ায় সৈকত তাদের দলে। করোনা মহামারির কারণে বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি ও আবাসিক হল বন্ধ ঘোষণার পর সবাই যখন ফিরেছে নিরাপদ নিবাসে, তখন তিনি দুর্গত মানুষের কথা ভেবে রয়ে গেছেন এই শহরে।


মন্তব্য