প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে টাকা দিচ্ছেন না ঢাবি শিক্ষক রুশাদ, জানালেন কারণ

  © সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর ত্রান তহবিলে টাকা দেয়ার জন্য শিক্ষকদের দুই দিনের বেতনের সমতুল্য টাকা জমা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। কিন্তু এ তহবিলে টাকা না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুশাদ ফরিদী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে এ তথ্য জানিয়ে তার কারণ জানিয়েছেন ওই শিক্ষক। তার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে টাকা দেয়ার জন্য শিক্ষকদের দুই দিনের বেতনের সমতুল্য টাকা জমা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু এটাও বলে দিয়েছে, কেউ না দিতে চাইলে ৫ তারিখের মধ্যে প্রধান হিসাব রক্ষককে জানাতে। আমি সেটা জানিয়ে দিয়েছি।

এর প্রধান কারণ হচ্ছে আমার মতে এই অর্থের আরো যৌক্তিক এবং সংগত ব্যবহার হবে যদি এই অর্থ সংগ্রহ করে এই বিপর্যয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিটিকে কীভাবে রক্ষা করতে পারি সেটার দিকে মনোযোগ দিতে পারি। এটা একটু স্বার্থপরের মতন শোনালেও বেশ কার্যকরী। প্রত্যেকটা কমিউনিটি যদি তার নিজের কমিউনিটির জন্য কাজ করে তাহলেই তো আর কারো কিছু করা লাগে না।

আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রী রয়েছে ৩০/৩৫ হাজার এবং বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এর ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এরা কে কেমন আছে এই বিপর্যয়ে আমরা জানি?

এই জন্য শিক্ষক সমিতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে একটা হটলাইন চালু করার দাবী জানাতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাইরে থেকে দু’একজন ডাক্তার নিয়োজিত করতে পারে। ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে কেউ যদি আক্রান্ত হয় আমি নিশ্চিত তাঁর সুষ্ঠ চিকিৎসা ঢাকার বাইরে থেকে করা খুবই কঠিন হবে। তখন তাকে ঢাকায় নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা ইত্যাদির জন্য জনবল এবং অর্থ দরকার।

শুধু চিকিৎসা নয়, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অত্যন্ত্য দরিদ্র এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠির ছাত্র ছাত্রীরা পড়তে আসে। এই অবস্থায় তাঁদের কেউ কেউ যে দু’বেলা আহার করতে পারছে সেটার নিশ্চয়তা নেই। আমি আমার একটা কোর্সের এক ছাত্রের কথা জানতাম, যে রাতের খাবারের কিছু অংশ বাঁচিয়ে রাখতো সকালের নাশতার জন্য, টাকা পয়সার এতোই সংকট। আর এখনকার এই মানবিক এবং অর্থনৈতিক যুগপৎ বিপর্যয়ে অনেক ছাত্র-ছাত্রীর অবস্থা আরো বেশী সংকটাপন্ন এতে কোন সন্দেহ নেই।

এই সংকটাপন্ন ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য শিক্ষকদের বেতন থেকে সংগৃহীত টাকা ব্যয় হলে আমি দুইদিন কেন এক সপ্তাহের বেতন দিয়ে দিতে রাজী আছি। শুধু তাই নয় সেজন্য প্রয়োজনীয় সময় এবং শ্রম দিতেও রাজী আছি।

সেই রকম কষ্টসাধ্য পরিকল্পনামাফিক কোন কিছুতে না যেয়ে কিছু টাকা কেটে একটা ফান্ডে দিয়ে আসা তুলনামূলকভাবে অনেক সহজ কাজ।

আজকে ৫ তারিখ, আজকে শেষ দিন মতামত জানানোর। তাই আমি এই চিঠিতে হিসাবরক্ষকের যে ফোন নম্বর দেয়া আছে সেটিতে ফোন করে আমার বেতনের টাকা কাটতে নিষেধ করেছি। আরেকটি গৌণ কারন হচ্ছে আমি এর মধ্যেই একাধিক সংগঠনকে অর্থ সাহায্য করেছি। কিন্তু সেটিও মূল বিষয় নয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কমিউনিটির জন্য কিছু করা হলে আবারো এগিয়ে আসব। শুধু তাই নয়, অন্যরকম সত্যিকারের কার্যকরী উদ্যোগ হলে অবশ্যই নিজে থেকে বলবো আরো বেশী টাকা কাটতে।

সেই সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং ছাত্র-ছাত্রীদের আহবান করছি, আমাদের কমিউনিটিকে এই ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে সুরক্ষার জন্য আমরা সম্মিলিতভাবে কি করতে পারি সেই বিষয়ে তাঁদের চিন্তাভাবনা শেয়ার করতে।’


মন্তব্য