ঢাবি হলে বাজল ছুটির ঘন্টা

এসএম হলের এক কর্মচারী ঘন্টা বাজিয়ে বন্ধের ঘোষণা দিচ্ছেন  © টিডিসি ফটো

আজ সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল আবাসিক হল বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল সিন্ডিকেটের জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর থেকে সব আবাসিক শিক্ষার্থী হলে ছেড়ে বাড়ির চলে যায়। আজ সন্ধ্যায়ও অনেককে বাড়ি যেতে দেখা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আজ সন্ধ্যা ৬টার আগেই হল ছেড়েছে আবাসিক শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান বলেন, সন্ধ্যা ৬টার আগে সব শিক্ষার্থী হল ছেড়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও বাসায় চলে গেছে।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল আবাসিক হলে বিশেষ উপলক্ষে ঘন্টা বাজানো নিয়ম ও রীতি প্রচলিত রয়েছে। আজ সন্ধ্যায় ৬টায় হল বন্ধের সময়ে হলে হলে ঘন্টা বাজিয়েছে কর্মচারীরা। এ বিষয়ে সলিমুল্লাহ্ মুসলিম (এসএম) হলের আবাসিক শিক্ষার্থী রনি মৃধা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ছুটির ঘন্টা। জীবনে প্রথম এবং শেষ দেখলাম।

এর আগে গতকাল দুপুরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঢাবি কর্তৃপক্ষ বলছে, এ সময়ের পরে কোন শিক্ষার্থী সেখানে অবস্থান করতে পারবে না। আর হল-হোস্টেল প্রশাসনকে সার্বিক পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ ডেঙ্গু প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করার জন্য বলা হয়েছে। 

এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হলেও আবাসিক হলগুলো খোলা রাখা হতো। সর্বশেষ হল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল ২০০৭ সালের ২১ আগস্ট কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে সেনাবাহিনী ও শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনার পর। ফলে এক যুগ পর আবাসিক হল বন্ধ হলো আজ।

তারেক হাসান নির্ঝর নামে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের এক শিক্ষার্থী ফেসবুকে লিখেছেন, আজকে সন্ধ্যার মধ্যেই হল খালি করে দিতে বলা হয়েছে আমাদের। নিরাশ্রয়ের মতো তাই শহরের পথে নেমে গেলাম। থাকতে হবে এই শহরেই। কি এক অদ্ভুত সময়ে এসে সব বদলে গেলো হঠাৎ। দুর্যোগের শেষে হয়তো আবার দেখা হবে এই চত্বরে, হয়তো হবে না। ভালো থাকুক সবাই। কঠিন এই সংগ্রামে বেঁচে থাকুক মানুষ।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধের সময়সীমা আরও তিনদিন বেড়েছে। সিন্ডিকেট সভায় আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত ছুটি বর্ধিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ছুটিকালীন সময়ে সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। বহিরাগত কাউকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ ও অবস্থান না করার জন্যও বলা হয়েছে। এর আগে গত সোমবার গ্রীষ্মের ছুটি এগিয়ে এনে ১৭ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ছুটি ঘোষাণা করা হয়েছিল।

সিন্ডিকেট সভায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা এবং জাতির বৃহত্তর স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নিজ নিজ বাড়ী/বাসায় অবস্থান করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ