বাকৃবি শিক্ষার্থী হামজার খোঁজ মিলেছে

আহসান হাবীব হামজা

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থী আহসান হাবীব হামজার (২৪) খোঁজ মিলেছে। পাঁচ দিন পর গত বুধবার রাতে হামজা নিজ বাড়িতে আসেন। পরে রাতেই হামজাকে পুলিশের হেফাজতে নেয়া হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় সিরাজগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ দেওয়ান কউশিক আহমেদ এবং হামজার পরিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সিরাজগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ দেওয়ান কউশিক আহমেদ বলেন, বুধবার রাতে হামজাকে পুলিশের হেফাজতে নেয়া হয়। পরে তাকে ময়মনসিংহ কোতয়ালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

হামজা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার পূর্ণিমাগাতি ইউনিয়নের ফলিয়া গ্রামের মো. আব্দুল মোতালেবের ছেলে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শহীদ নাজমুল আহসান হলে থাকতেন তিনি।

হামজার পরিবার জানায়, হামজা গত বুধবার দুপুর ৩টার দিকে তার বোনের ফোনে মেসেজ দেন। তিনি লিখেন- আমি ভালো আছি, কেউ যেন দুশ্চিন্তা না করে। আমি বাড়িতে আসছি। পরে রাত ৮ টার দিকে হামজা বাড়িতে আসেন। আমরা পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করি। পরে রাত ১০ টার দিকে হামজাকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ।

বিশ্ববিদ্যালয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে হল থেকে বের হন তিনি। পরদিন সকালে নিজ বাড়িতে যাওয়ার কথা থাকলেও তিনি বাড়িতে যাননি এবং পরে হলেও ফিরে আসেননি। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ময়মনসিংহ কোতয়ালি থানায় ৮ ফেব্রুয়ারি একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল।

পরিবার সূত্র জানায়, হামজা যখন কলেজে পড়ত তখন খেলতে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়েছিল। এরপর থেকেই মাঝেমধ্যেই মানসিক সমস্যা দেখা দিত। এরপর থেকেই তাকে বিভিন্ন সময়ে মানসিক ডাক্তার দেখানো হয়। গত দেড় মাসে আগে ঢাকায় ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায় তার পরিবার। এরপর থেকেই দেড়মাস ধরে মানসিক রোগের ঔষধ খাওয়ানো হয়। তবে হামজা নিজেকে সুস্থ মনে করতেন। মানসিক রোগের ঔষধ খেতে চাইতেন না তিনি। এই বিষয়েই অভিমান করে বাড়ির সাথে সবধরনের যোগাযোগ বন্ধ করেন বলে হামজা তার পরিবারকে জানিয়েছেন। হামজা আরও জানান, তিনি বাড়ির সবার সাথে অভিমান করে চট্টগ্রাম চলে যান। পরে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় নিখোঁজ সংবাদ দেখে বুধবার দুপুরে বোনের ফোনে মেসেজ দেন এবং তিনি রাত ৮ টার দিকে নিজ বাড়িতে যান। পরে রাতে ১০ টার দিকে পুলিশ হামজাকে আটক করে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে হামজার পিতা মো. আব্দুল মোতালেব বলেন, ‘পুলিশ হামজাকে কোথায় নিয়ে গেছে এবং কোন থানায় তাকে রাখা হয়েছে এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানতে পারিনি। তার ব্যাপারে আমাদের পরিবারের সবাই উদ্বিগ্ন।’

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই সামিউল ইসলাম বলেন, ‘হামজার বাড়ি থেকে আমাকে এ ব্যাপারে জানিয়েছে। আমি ওসি স্যারকে এ বিষয়ে অবহিত করেছি।’

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মাহমুদুল ইসলাম বলেন, ‘হামজার বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না।’


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ