১৪ জানুয়ারি ২০২০, ১৮:৪৫

‘পূজার দিনে ভোট নয়’—শাহবাগ অবরোধ

রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোট গ্রহণের তারিখ পরিবর্তনের আবেদন জানিয়ে করা রিটটি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে ৩০ জানুয়ারিই এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানারে মঙ্গলবার বিকেল ৫টা থেকে অবরোধ শুরু হয়। এতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ভোগান্তিতে পড়ছে পথচারীরা।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শাহবাগ অবরোধ করে রয়েছে শিক্ষার্থীরা। ফলে ওই পথে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া সব কিছু আটকা পড়েছে। এদিকে অফিস শেষে বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পথে নামা কর্মজীবী ও সাধারণর মানুষ পড়েছেন বিপাকে।

৩০ জানুয়ারি সরস্বতী পূজার দিন ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন না করার জন্য দাবি জানিয়ে আসছে ডাকসুর নেতারা। এছাড়া সাধারণ শিক্ষার্থী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে বিক্ষোভ করে নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন না করলে আন্দোলনে যাওয়ারও ঘোষণা দিয়েছিল।

কিন্তু হাইকোর্ট নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনে করা রিট খারিজ করায় শাহবাগ অবরোধ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এতে বিভিন্ন হল সংসদের ভিপি, জিএস, এজিএস সহ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা সার্বজনীন উৎসব সরস্বতী পূজার দিনে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন না করার জন্য বিভিন্ন ধরণের স্লোগান দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে জগন্নাথ হল ছাত্র সংসদের ভিপি উৎপল বিশ্বাস বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশন বরাবর চিঠি দিয়েছি তারপরেও কেন দাবি মেনে নেওয়া হলো না তা আমরা জানতো চাই। একই দিনে সার্বজনীন উৎসব সরস্বতী পূজা এবং নির্বাচন কখনো হতে পারেনা। কারণ শিক্ষার্থীরা সহ ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমে পালিত হয়। একই তারিখে যদি নির্বাচন হয় তাহলে উৎসবের আনন্দ হবে না তাই আমরা চাই এ দিনে যেন নির্বাচন না হয়।

আপনারা কতদিন আন্দোলন চালিয়ে যাবেন এ প্রশ্নের জবাবে উৎপল বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের দাবি মেনে না নেওয়া হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল সংসদের জিএস মেহেদী হাসান শান্ত বলেন, আমাদের দেশ হলো অসাম্প্রদায়িক একটি দেশ। এ দেশে পূজার দিনে নির্বাচন কখনো কাম্য হতে পারে না। আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। ডাকসু, সাধারণ শিক্ষার্থী ঐক্য পরিষদ, সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষকের দাবি এবং মানববন্ধনের পরেও হাইকোর্ট কেন রিট খারিজ করল এটা আমরা জানতে চাই। যতদিন আমাদের এই দাবি মেনে নেওয়া না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা জেগে থাকবে।

এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের এজিএস সাদ্দাম হোসেন বলেছিলেন, যদি পূজার দিনে নির্বাচনের তারিখ পেছানো না হয় তাহলে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা নির্বাচন কমিশন অফিস ঘেরাও করব। আর কিভাবে দাবি আদায় করতে হয় তা আমরা দেখিয়ে দিব।

আজ দুপুরে হাইকোর্টের বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রিটটি খারিজ করে দেন। আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দিয়ে আদালত আদেশে বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২৯ জানুয়ারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করেছে। সুপ্রিম কোর্টের ক্যালেন্ডারেও ২৯ তারিখ ছুটির কথা বলা আছে। আর নির্বাচন কমিশন ৩০ তারিখ ভোটের তারিখ ঘোষণা করেছে। তার দু’দিন পর এসএসসি পরীক্ষা। এমতাবস্থায় ভোটের তারিখ পেছানোর কোনো সুযোগ নেই, তাই আবেদনটি সরাসরি খারিজ করা হল।

আইনজীবী অশোক কুমার ঘোষ রিটটি করেছিলেন। রিটকারী আইনজীবী অশোক কুমার ঘোষ আদালতে নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মিজানুর রহমান। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ছিলেন তৌহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, এই আদেশে আমরা সংক্ষুব্ধ। আমরা আপিল বিভাগে যাব।